সদ্য সংবাদ :
অর্থ ও বাণিজ্য

মণ প্রতি ধানের দাম হওয়া উচিত ১২০০ টাকা: অর্থনীতি সমিতি

Published : Saturday, 25 May, 2019 at 8:41 PM
স্টাফ রিপোর্টার: মণ প্রতি ধানের মূল্য এক হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাব অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৯-২০’ শীর্ষক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।


আবুল বারকাত বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে শ্রমের মূল্য যোগ করে এবার ধানের দাম হওয়া উচিত ১ হাজার ২০০ টাকা। এ সময় তিনি কৃষকের এই দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারকে আহ্বান জানান। কৃষি ফসলের উৎপাদন অঞ্চল গঠন ও কৃষককে কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, এ বছর বোরো ধানে কৃষকের প্রকৃত লোকসান হবে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। এ নিয়ে সরকারের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি কৃষককে তার উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য জরুরিভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারিভাবে সংগ্রহের ক্রয়মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারিভাবে সংগ্রহের ক্রয়মূল্য শুধু উৎপাদন খরচের তুলনায় কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ালেই হবে না। নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত কৃষকই যেন ঝামেলা ছাড়াই ওই বাজারমূল্য পান।

আবুল বারকাত বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ বোরো ধান উৎপাদনে ৬০০ টাকার বেশি উৎপাদন খরচের যে হিসাবটি দেওয়া হয়, তা সংশ্লিষ্ট কৃষাণ ও কৃষাণীর পারিশ্রমিক বাদ দিয়ে করা হয়। ওই পারিশ্রমিক হিসাব করলে দানের উৎপাদন খরচ আরও বেশি। তাই বোরো ধানের বিক্রয় মূল্য এক হাজার ২০০ টাকা করা উচিত।

কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষিঋণ মওকুফের সুপারিশও করেন তিনি।

প্রসঙ্গত,এবার বোরো ধান প্রতিমণ ১ হাজার ৪০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। কিন্তু সরকারি কেনায় দেরি হওয়ায় ৪০০-৫০০ টাকায় দালালদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব করা হয়। যেখানে সরকারের সম্ভাব্য বাজেট ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ কর (আয়কর) ৬৯ শতাংশ ও পরোক্ষ কর (ভ্যাট) ৩১ শতাংশ হবে। অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশ যোগান হবে সরকারের রাজস্ব আয় থেকে। এ বাজেট পুরোপুরি বৈদেশিক ঋণমুক্ত।

ড. বারকাত বলেন, আমাদের বাজেটে রাজস্ব আয়ের জন্য ২০টি নতুন উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো আগে ছিল না। এর মধ্যে তিনটি উৎস থেকেই সরকার ৯৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করবে। উৎস তিনটি হলো সম্পদ কর, কালো টাকা উদ্ধার ও অর্থপাচার রোধ। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে প্রত্যেক বছর তিনটি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব।

এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট পুরোপুরি বৈদেশিক ঋণমুক্ত। বিদেশি অর্থায়নের দরকার হবে না। প্রস্তাব মতো বাজেটের আয় কাঠামোতে মৌলিক গুণগত রূপান্তর ঘটবে। সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে। কেউ বলতে পারেন এ ঘাটতি অনেক বড়। এ ব্যাপারে বলব, জাপানে বাজেট ঘাটতি প্রায় ২৫৬ শতাংশ। ঘাটতি বাজেটে সমস্যা হলে কোনও ঘাটতি না রেখে প্রস্তাবিত রাজস্ব আয় দিয়েও মোট বাজেট প্রস্তুত করতে পারেন। বর্তমানে উন্নত দেশের প্রায় সবাই ১৯৩০-১৯৭০ দশক পর্যন্ত উন্নতি করেছিল। সেসময় তাদের সবারই সরকারি ব্যয় বরাদ্দ ছিল বেশ বেশি, বেশি ছিল প্রবৃদ্ধির হারও।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাতওয়ারি সর্বোচ্চ মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে। এরপর জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যখাত, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাত। অন্য খাতগুলো হলো- কৃষি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস, জনশৃঙ্খলা-নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা।

খেলাপী ঋণ প্রসঙ্গে আবুল বারকাত প্রস্তাব করেন, অভ্যাসগত ঋণখেলাপীদের মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, তাদের উদ্যমে চালু শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হবে না। সমস্যাটি জটিল তবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করি।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদদের পেশাদার এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ ও সমিতির সদস্যরা।

এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ// 
               








সম্পাদক : শাহীন চৌধুরী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক: বরুন ভৌমিক নয়ন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের
ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৯১১৯১১৬, ৯১৩৯২৭৪ হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস: নাসিমন ভবন ( দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন- ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close