সদ্য সংবাদ :
বিশেষ সংবাদ

গণপূর্তের ক্রয়নীতিমালায় দুর্ণীতির ফাঁদ পাতা

Published : Saturday, 20 July, 2019 at 10:28 PM
বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারি কেনাকাটার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর যে নীতিমালা তৈরি করে রেখেছে তার মধ্যেই দুর্ণীতির ফাঁদ পাতা আছে। এই ফাঁদে ফেলেই ঠিকাদারদের সঙ্গে নিয়ে তৈরি করা হয় দুর্ণীতির ক্ষেত্র। এতে ঠিকাদারেরাও সুযোগ পান নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করে বেশি অর্থ  হাতিয়ে নেওয়ার।

 

দুর্ণীতির ওই ফাঁদের উদাহরণ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘মূল্য তালিকা (রেট সিডিউল) ২০১৮’ উল্লেখ করে অধিদপ্তরের সূত্র বলেন, ওই সিডিউলের ২১৯ পৃষ্ঠায় ইস্পাতের কাঠামো তৈরির জন্য তৈরি মূল্য তালিকায় ঠিকাদারের জন্য ১০ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর ঠিকাদারের ওপর ৬ শতাংশ হরে মূসক ধরা হয়েছে।

 সূত্র বলেন, এর মানে হচ্ছে কোনো ঠিকাদার তাঁর কাজের জন্য ১০০ টাকা বিল করলে তার মধ্যে ১০ টাকা তাঁর মুনাফা, ৬ টাকা মূসক এবং অবশিষ্ট ৮৪ টাকা মূল কাজে ব্যয় ধরা হবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো ঠিকাদার যখন ১০০ টাকার একটি বিল উপস্থাপন করেন তখন সেখান থেকে ৬ শতাংশ মূসক এবং ৫ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। ৫ শতাংশ করের কথা সিডিউলে উল্লেখ নেই। তারপরও কাটা হয়।

 

ফলে ঠিকাদার যদি মূল কাজে ৮৪ টাকা ব্যয় করেন তাহলে মূসক ও কর মিলিয়ে ১১ শতাংশ কেটে নেওয়ার পর তাঁর মুনাফা থাকে ৫ শতাংশ। কিন্তু ৫ শতাংশ মুনাফায় তো কোনো ঠিকাদার কাজ করবেন না। তাই ঠিকাদার গণপূর্তের সঙ্গে যোগসাজশে মূল কাজে তিনি ব্যয় করেন অনেক কম। তাই কাজ হয় নিম্নমানের। উদ্বৃত্ত অর্থ ভাগাভাগি হয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের মধ্যে। অধিদপ্তরের সূত্র বলেন, চলতি অর্থ বছরের বাজেটে এই কাজের ক্ষেত্রে মূসক ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখন থেকে ঠিকাদারের বিল থেকে কেটে নেওয়া হবে মোট সাড়ে ১২ শতাংশ।

 

একটি ঠিকাদার কোম্পানির একজন ব্যবস্থাপক বলেন, ৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়া আরো একটি কারণে অযৌক্তিক। কারণটি হলো—যে কোনো প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকা আয় করলে ৩৫ শতাংশ কর দিতে হবে। সে হিসাবে গণপূর্তের সিডিউলে নির্ধারণ করে দেওয়া ১০ শতাংশ মুনাফার জন্য সাড়ে ৩ শতাংশ কর অগ্রিম হিসেবে কেটে নেওয়া যৌক্তিক হতে পরে। কোনোভাবেই ৫ শতাংশ নয়।

 

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সূত্রগুলো বলেন, দুর্ণীতিকে নির্বিঘ্ন করতে অধিদপ্তরের ক্রয়নীতিমালায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও ব্যাখ্যার অতীত অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালা সংশোধন কিংবা বাতিল করে নতুন নীতিমালা না করা হলে দুর্ণীতির লাগাম টানা সম্ভব হবে না। গণপূর্তের কাজের মানও ভাল হবে না।

 

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পে আসবাবপত্র ও বালিশসহ কতিপয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে গঠিত কমিটিও বলেছে, ‘গণপূর্তের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনার জন্য নতুন ক্রয়নীতি প্রয়োজন।’ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে এ কথা বলা হয়েছে।

 একটি সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পের আসবাবপত্র ও ঘরে ব্যবহারের জিনিসপত্র কেনা হয় ‘কোটেশন পদ্ধতি’তে। এই পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে গণপূর্ত অধিপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যোগসাজশের মাধ্যমে কোনো একজন ঠিকাদারের কাছ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠোনের নামে একাধিক দরপ্রস্তাব (কোটেশন) নিয়ে তার মধ্যে তথাকথিত সর্বনিম্ন দর প্রস্তাবকারীকে কাজ দিতে পারেন। সরকারি কেনাকাটার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যে দামে কেনাকাটা করা হবে সেটি অবশ্যই প্রতিযোগীতামূলক ও সর্বনিম্ন হতে হবে।

 

উপরোক্ত সিডিউলের মত এই পদ্ধতিতেও জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থা নেই। সেই কারনেই রূপপুরের কেনাকাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কোনো কর্মকর্তা বলেছেন যে তাঁরা নিয়ম অনুযায়ীই কেনাকাটা করেছেন। নিয়মের কোনো ব্যত্যয় তাঁরা ঘটাননি। এই প্রেক্ষাপটেই রূপপুরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সূত্রগুলো নতুন ক্রয়নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

 




এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//







সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৯১১৯১১৬, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close