সদ্য সংবাদ :
বিশেষ সংবাদ

চার টিসিএফ গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা

Published : Sunday, 6 October, 2019 at 4:56 PM
শাহীন চৌধুরী: ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১০ বছর ধরে গ্যাস উত্তোলন করে আসছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স। ভোলাতেই গত বছর আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে রাষ্ট্রীয় এই কোম্পানি। এরপরও দেশের দক্ষিণের দ্বীপজেলা ভোলায় গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত মূল্যায়নের নামে বাপেক্সের সঙ্গে রাশিয়ার তেল–গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান গাজপ্রমকে (আন্তর্জাতিক) যুক্ত করতে চাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সঙ্গে গাজপ্রমের যৌথ সমীক্ষার সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অন্য কারও সহায়তা ছাড়াই বাপেক্স ভোলা থেকে সফলভাবে গ্যাস উত্তোলন করার পরও সরকার কেন এই এমওইউ করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তেল-গ্যাস খাতের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এর মাধ্যমে একদিকে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সের কর্তৃত্ব খর্ব করা হবে, অন্যদিকে গাজপ্রমকে গ্যাস উত্তোলনের কাজে যুক্ত করলে সরকার আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া গাজপ্রমকে ২০১২ সালে দেশের যে ১০টি গ্যাসকূপ খননের দায়িত্ব (ঠিকাদারি) দেওয়া হয়েছিল, সে অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না।

রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গাজপ্রমের প্রথম দফায় খনন করা গ্যাসকূপগুলোর পাঁচটিই (তিতাস-২০, তিতাস-২১, সেমুতাং-৬, বেগমগঞ্জ-৩ ও শাহবাজপুর-৪) বালু ও পানি উঠে বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলো পরে বাপেক্সকেই মেরামত করে গ্যাস উত্তোলনের উপযোগী করার দায়িত্ব নিতে হয়।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য রাশিয়া বা রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নাম গাজপ্রম পিজেএসসি। আন্তর্জাতিক গাজপ্রম সেটারই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) একই কাজের জন্য সরকারের পেট্রোবাংলার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান। গাজপ্রমের সঙ্গে এমওইউ করার বিষয়টি নিয়ে বাপেক্সের আগামী বোর্ড সভায় (চলতি মাসে, তারিখ ঠিক হয়নি) আলোচনা হতে পারে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরূল ইমাম এবিনিউজকে বলেন, যৌথ মূল্যায়ন মূলত একটি অজুহাত। ভোলায় গ্যাসের ভালো মজুত আছে বুঝতে পেরে গাজপ্রম কয়েক বছর ধরেই গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছে। যৌথ মূল্যায়নের পথ ধরে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটি আসলে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের পথে যেতে চায়। যৌথ উত্তোলন চুক্তি করতে পারলে সংস্থাটি ঠিকাদারির চেয়েও বেশি লাভ করতে পারবে।

ভোলার সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলো আবিষ্কার করেছে বাপেক্স। তারপরও রাশিয়ার গাজপ্রমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মূল্যায়নের তোড়জোড় চলছে।

তেল-গ্যাস তথা হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের প্রথম ধাপ দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ। ওই জরিপের ভিত্তিতে কূপ খননের স্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেখানে প্রথমে অনুসন্ধান কূপ খনন করে তেল বা গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করতে হয়। তারপর আসে উত্তোলন কূপ করে বাণিজ্যিকভাবে আহরণ।

বাপেক্স ১৯৯৫ সালে দ্বিমাত্রিক জরিপ করে ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেছিল। ২০০৯ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করছে বাপেক্স। নতুন করে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভোলা, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপও করেছে তারা। ওই জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে বাপেক্স ভোলা গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খননের দুটি স্থান ঠিক করে। ২০১৮ সালে দুটি কূপেই গ্যাস পাওয়া যায়। একটি কূপ পড়েছে ভোলা-উত্তর। এটি দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। বাপেক্সের একাধিক প্রকৌশলী বলেছেন, দক্ষিণের জেলাগুলো গ্যাসের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, ভোলার দুটি ক্ষেত্রে মোট দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে। দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকেই বাপেক্সের সঙ্গে যৌথভাবে গ্যাস তুলতে চায় গাজপ্রম। এ জন্য তারা শাহবাজপুর ও ভোলা উত্তর গ্যাসক্ষেত্রে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, তা বাপেক্সকে নিয়েই মূল্যায়ন করার প্রস্তাব দিয়েছে। গ্যাসের সম্ভাব্য মজুতের ভিত্তিতে ভোলায় ১২টি নতুন কূপ খনন করতে চায় তারা।

বাপেক্স ভোলা থেকে গ্যাস উত্তোলন করার পরও কেন গাজপ্রমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রয়োজন দেখা দিল, এই প্রশ্নে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মো. আবদুল হান্নান এবিনিউজকে বলেন, রাশিয়া-বাংলাদেশ সমঝোতার ধারাবাহিকতায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই এমওইউর বিষয়টি এসেছে।



এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//







বিশেষ সংবাদ পাতার আরও খবর


সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৯১১৯১১৬, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close