সদ্য সংবাদ :
বিশেষ সংবাদ

একজন প্রবাসী এতিমের জমি বেদখলের অভিযোগ

Published : Thursday, 20 February, 2020 at 7:27 PM
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকার মিরপুরে এতিম একজন প্রবাসী বাংলাদেশীর শেষ সম্বল সাড়ে ছয় শতাংশ জমি, এলাকার একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যু দল অবৈধভাবে দখল করে বহুতল ভবন নির্মান করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, প্রবাসী সেহেলী সুলতানা মিতা দীর্ঘদিন ধরে ছেলেমেয়ে নিয়ে রোমে বসবাস করেন। ২০১৫ সালে বাবার মৃত্যুর পূর্বে ২০১৩ সালে মিরপুরের টোলার বাগ আবাসিক এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমির উপর টিনের চালাযুক্ত ৫টি ঘরের একটি বাড়ি মেয়েকে হেবা দলিলের মাধ্যমে দান করেন। পরে সুলতানা তার নিজ নামে নাম খারিজ ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ভোগ দখল করে আসছিলেন।

ইচ্ছে ছিল সুযোগমত দেশে এসে এ জমিতে বাড়ি তৈরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করবেন। কিন্তু সে সুযোগ পাওয়ার আগেই সেহেলী সুলতানা ২০১৫ সালে বাবাকে হারান। একই বছর স্বামীও এক মারাত্মক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বহন করে চলছেন। যে জন্য তিনি দীর্ঘ দিন দেশে আসতে পারেননি।

এ সুবাধে সুযোগ সদ্ধানী ভুমি দস্যু দলের মো:দেলোয়ার হোসেনের এর নেতৃত্বে ওই জমির উপর একটি বহুতল ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন। যার নির্মান কাজ বর্তমান অবধি চলমান আছে। জমির কাগজপত্র পর্যালাচনা করে জানা গেছে মো: আব্দুল করিম বিগত ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯, ৯২৭৩ নং সাব কবলা দলিলমূলে মিরপুর থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা নিবাসী মরহুম আব্দুস সামাদ এর পুত্র মো: আব্দুল বারীর কাছ থেকে খরিদ করেন। অত:পর ১৬৫৩৪/৮১ ২২ অক্টোবর ১৯৮১ এর আদেশ বলে নিজ নামে নাম জারি করে মিরপুর ভুমি অফিসে ১৮/১৫৩ নং জোতে ধার্যকৃত খাজনাদী নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন।

মো: আ: বারী উক্ত জমি মিরপুর সেনপাড়া পর্বতা নিবাসী মৃত আলীরদ্দিনের পুত্র ফজলুর রহমান ও জহিরুদ্দিনের নিকট হইতে পাইকপাড়া নিবাসী মৃত জমির উদ্দিন মাদবরের ওয়ারিশ তার পুত্র ছলিম উদ্দিন মাদবর ও সেনপাড়া পর্বতা নিবাসী মৃত ইসমাইল মিয়ার পুত্র খলিল মিয়া বিগত ২২ ডিসেম্বর ১৯৬৪ ঢাকা সদর অফিসে রেজি:কৃত ১১৬২২ নং দলিল মুলে ৪০ শতাংশ জমি খরিদ সুত্রে মালিক হইয়া বিগত ২৪ নভেম্বর ১৯৬৫ ছলিম উদ্দিন মাদবর ও খলিল মিয়া ঢাকা সদর সাবরেজি: অফিসের রেজি:কৃত যথাক্রমে ৮২৯৯ ও ৮৩০৪ নং দলিল মুলে আ: বারী ও তার ভাই আ: রশিদের নিকট ষোল আনা সম্পত্তি বিক্রি করেন ফলে মো: আ: বারি ২০ শতাংশ জমির মালিক হন এবং পরবর্তীতে ২৬ মে ১৯৬৬ ঢাকা সদর সাব রেজি: অফিসের রেজি:কৃত ৮৪৩৫ নং দলিল মুলে আলীরদ্দিনের ওয়ারিশ স্ত্রীআমেনা খাতুন ও পুত্র বশির উদ্দীনের নিকট হতে আরো ০৭ শতাংশ জমি খরিদ করলে খরিদ সূত্রে সে মোট ২৭ শতাংশ জমির মালিক হয়ে তার খরিদা সম্পত্তির ০৬.৫ (সাড়ে ছয়) শতাংশ জমি ২৭জুন ১৯৬৯ আ: করিমের নিকট বিক্রয় করেন। আ: করিম জমি ক্রয় করে নিজ নামে নাম জারি ও নিয়মিত খাজনা সহ এলাকার উন্নয়ন ফি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। 

১৯৯৮ সালের শেষের দিকে ঢাকা মহানগর সিটি মাঠ পর্চা জরিপকালে উক্ত দাগটি ভুলবশত: শাহ মো: আ: করিমের স্থলে বড় মগবাজার ৮১/১ আউটার সার্কুলার রোড়ের জনৈক হাজী রেজিয়া বেগম, স্বামী মৃত তজিবর রহমান ভূয়া এর নামে রেককর্ডভুক্ত হয়। যা ১৩ আগস্ট ২০০৮ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে শাহ মো: আব্দুল করিম ১৩ নভেম্বর ২০০৮ সিটি জরিপের কপি তুলিয়া নিশ্চিত হন। পরে শাহ মো: আ: করিম বাদী হয়ে বিগত ০২ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখ ঢাকা মহানগর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল আদালতে সিটি জরিপ সংশোংধনের জন্য ১১৯৩/০৮ নং মামলা দায়ের করেন। আদালত দীর্ঘ ৭ বছর যথাযথ ভাবে সরেজমিন তদন্ত ও ঊভয় পক্ষের স্বাক্ষীর শুনানীর ভিত্তিতে গত ১৪মে ২০১৫ তাং ঢাকা মহানগর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালের বিচারক(যুগ্ম জেলা জজ) মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের আদালত ঢাকা সিটি জরিপ খতিয়ান নম্বর ৩৪৬১ এর দাগ নম্বর ৩৩৯২ নং দাগের ভুমিতে বিবাদী হাজী রেজিয়া বেগমের নাম কর্তন করে বাদী শাহ মো: আ: করিমের নাম সংশোধন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 
এ রায়ের ভিত্তিতে মোহম্মদপুর/মিরপুর ঢাকা এর সহকারী কমিশনার (ভূমি)বরাবরে মিস কেইস নং ৭৭/১৫ দায়ের করলে সরেজমিন তদন্ত শেষে ২০১৬-১০৬ ৪ফেব্রুয়ারি ২০১৬ আদেশে অত্র খতিয়ানে হাজী রেজিয়া বেগমের নাম কর্তন করে শাহ মো: আ: করিমের নামে নাম খারিজ করা হলে পিছনের সকল বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে ১৪২৪সাল পর্যন্ত হাল নাগাদ করেন। 

পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শাহ মো:আ: করিম বার্ধাক্যজনিত রোগে মৃত্যু বরন করেন। তার মৃত্যুর পূর্বের হেবাকৃত ১২ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তাং এর ১৬৮৪নং দলিলানুযায়ী তার কন্যা সেহেলী সুলতানার নামে ১১৪৯/১৬-১৭নং ২৩জানুয়ারি ২০১৭ নাম খারিজ করা হয় ও ১৪২৬ সাল পর্যন্ত অগ্রীম খাজনা প্রদান করা হয়।

এ দিকে ২০০৮/২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ /১৬ বর্সাতমান পর্যন্ত আদালতে মামলা চলাকালীন সময় মোহম্মদপুর সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগ সাজশে রেজিয়া বেগমের নামে ২০১০সালে ৭৭৩২/০৯.১০তাং ১৫/০৪/২০১০নাম খারিজ করেন। যেখানে আর এস দাগ ১৮৮৩ উল্লেখ করা হয়েছে। 
পরবর্তীতে রেজিয়া বেগম ও তার পুত্র রকিবুল ইসলাম ভুইয়া রেজিয়া বেগমের দেয়া আমমোক্তার উক্ত জমিতে মামলা চলাকালীন সময় মামলা মোকদ্দমার কথা গোপন রেখে তারা ৭/১০/১০ তাং মিরপুর সাব রেজি:অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে ১২৮৬২নং দলিলের মাধ্যমে- ১/মো:দেলোয়ার হেসেন পিতা মরহুম এরশাদ মিয়া, সাম ২২৬/১ আহাম্মদ নগর, মসজিদ গলি, মিরপুর,ঢাকা। ২/মো: সেলিম ,পিতা রুহুল আমিন সাম ১৬/১/ডি, ২নং গেট টোলারবাগ আবাসিক এলাকা,দারুস সালাম ,ঢাকা। ৩/মো:মিজানুর রহমান পিতা মরহুম হাজী ছলিম উল্লাহ মুনিসী ৯/৭ টোলারবাগ আবাসিক এলাকা,ঢাকা। ৪/মো: লুৎফর রহমান পিতা হাজী ছলিম উল্লাহ মুন্সী ৯/৭ টোলারবাগ ৩তলা ঢাকা। ৫/মো: ইউনুঁছ গাজী পিতা মরহুম সিদ্দিকুর রহমান গাজী ৪৯০/৪৪৬ পশ্চিম বিষুদী রোড চাদপুর। ৬/মো:ফারুক হোসেন গাজী পিতা আনসার আলী গাজী ৯/৭ টেলার বাগ , ঢাকা ৭/ মো: মাসুদ আলম,পিতা মোহাম্মদ মিঁয়া, ২০৭ দক্ষিন বিশাল , দারুস সালাম ঢাকা ৮/মো: সামসুল আলম তালুকদার, পিতা মরহুম ওয়াজেদ আলী দাম ৪০৭ থানা পাড়া ওয়াজেদ আলী নেন , টাংগাইল সদর, টাংগাইল। ৯/ সামসুল আলম সরকার , পিতা মরহুম জয়নাল আবেদিন সরকার ৯/১ টোলারবাগ, ঢাকা। ১০/ফরিদুল হক ,পিতা মরহুম কাজী হামিদুল হক ১৬/১ এফ টোলারবাগ,ঢাকা। ১১/মো:জাহাংগীর আলম পাঠান,পিতা আবুতাহের পাঁঠান,পাঁঠান বাড়ী কলমা লৌহজং,মুনিসী গন্জ। ১২/কাজী মো: আশরাঁফুল ইসলাম হিমু , পিতা মৃত কাজী মো: মনিরুল ইসলাম ৪৭৪ উত্তর শাহজাহানপুর,শান্তি নগর,ঢাকা। ১৩/মর্তুজা হোসেন সরকার ,পিতা মো:মফিজুল ইসলাম ,সরকার বাড়ী কদমতলী দরিয়া দৌলত ,সোনরামপুর,বান্চারামপুর,বি বাড়ীয়া। ১৪/মো:অহিদুর রহমান (জন্ম তাং ০১/০১/১৯৬২ জাতীয় পরিচয় পত্র নং ২৬৯৪৮১২০৫৩৬৭০) পিতা মরহুম আ:হাকিম মাস্টার ৯/৭ টোলারবাগ,ঢাকা. উপরোক্ত ব্যাক্তিদের নামে হাজী রেজিয়া বেগম ও তার ছেলে আমমোক্তার রাকিবুল ইসলাম ভুইয়া সাব রেজি:ষ্টার হাসিনা বেগমকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ৭/১০/১০তাং একটি সাফ কবলা করে দেন যা সম্পূর্ন অবৈধ।

একই ভাবে তাদের মধ্যের অহিদুর রহমান তার অংশ মো:রোকনুজ্জামান ও শেখ আবুল বাসার এর নিকট পৃথক দুটি দলিলের মাধ্যমে আবার বিক্রি করেন। যদিও সেহেলী সুলতানার উক্ত জমির সঠিক আর এস দাগ নং ১৯৮৩ ও বিএস দাগ ৩৩৯২।)(ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও ভুমি রেজি: কিংবা এসি ল্যান্ড অফিসে তল্লাশি করে তাদের দাবিকৃত জমির দলিল নম্বরে উল্লেখিত আর এস ১৮৮৩ দাগের ভিত্তিতে বিএস ৩৩৯২ নং দাগের কোন হদিস পাওয়া যায়নি)সেই ভুয়া নাম খারিজকৃত পর্চা ও ভুয়া দলিল দেখিয়ে (যে সকল দলিল বা পর্চা এর কোন হদিস মিলেনি) রাজউক এর অথরাইজড অফিস-৩, এর অসৎ কিছু কর্ম কর্তা ও কর্মচারীর যোগ সাজশে আদালতে মামলার কথা গোপন করে ২৯/১১/২০১২ তাং রাজ উক/উ:বি;/৩সি-৩হি-১৩৮৫/১২/১৭৬০ স্মারক নং অথরাইজড অফিসার -৩বি উন্নয়ন নিয়ন্ত্রন শাখা,রাজউক ভবন ,ঢাকা কতৃক অবৈধভাবে একটি বহুতল( ১০তলা)ভবন এর নক্সা অনুমোদন করেন ।যে নক্সায় মৌজা ,আর এস ,বিএস ,কিংবা জমির চৌহুদ্দী উল্লেখ না করে শুধু এস এ দাগ ২০ এর অংশ )
উল্লেখ না করে নক্সা অনুমোদন করিয়ে বহুতল ভবনের নির্মান কাজ শুরু করে যাহা এখনো চলমান আছে। 

উল্লেখ্য যে সাধারন ভাবে কোন জমির উপর রাজউকের প্লান অনুমোদনের জন্য সেই জমির সকল প্রকার বৈধ দলিল পর্চা যেমন এস এ,সি এস ,আর এস, বি এস এর বৈধ পর্চা সহ চৌহুদ্দির বিবরন উল্লেখ থাকতে হয়। অথচ সেহেলী সুলতানার জমির উপর রাজ-উকের নক্সা অনুমোদনের জন্য কোন কিছুই বিচার বিবেচনা না করে অবৈধভাবে দাখিল করা নক্সা শুধু মাত্র এসএ বা সিএস ২০ দাগের নাম উল্লেখ করে রহস্যজনক ভাবে অনুমোদন করা হয়। যেখানে ঐ জমির এস এ /সি এস দাগ ২০ , আর এস ১৯৮৩ ও বি এস ৩৩৯২ যার একটি চৌহোদ্দি রয়েছে।অন্য দিকে বিবাদি পক্ষের করা অবৈধ দলিল পত্রে সি এস /এস এ ২০ আর এস ১৮৮৩ এ বি এস ৩৩৯২ দাবি করা হয়েছে। যা ভুমি অফিসের কোন দপ্তরে ঐ সকল দাগ নম্বরের কোন হদিস পাওয়া যায়নি ।

উক্ত ভুমি দষ্যু দলটি শুধু জমি দখল করেই খান্ত হয়নি উল্টো জমির মালিক পক্ষের নামে একের পর এক হয়রানীমুলক মামলা করে যাচ্ছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা।এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটি পরিবারের ভরনপোষন শেষে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আজ নিস্ব প্রায় পথে বলেছে। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারটি এ ঘটনা উল্লেখ করে নক্সা বাতিলের জন্য৪/৪/২০১৯ রাজউক চেয়ারম্যান/অথরাইজড অফিসার-৩, বরাবর একটি দরখাস্ত করলে কোন রহস্যজনক কারনে আজ পর্যন্ত নিস্পত্তি হয়নি।

এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারটির উক্ত জমি ফেরত পাওয়ার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//








সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক: শঙ্কর মৈত্র, নির্বাহী সম্পাদক: বরুণ ভৌমিক নয়ন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের, ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৯১১৯১১৬, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
Close