সদ্য সংবাদ :

অভি হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের গ্রেফতার করুন: চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল

Published : Sunday, 28 June, 2020 at 10:23 PM
জাহিদুল করিম কচি: মাদক সন্ত্রাসীদের হাতে ছাত্রদল নেতা মীর সাদেক অভি হত্যাকান্ডের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভি হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের ৭ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানানো হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নিকট হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানানো হয়। শহীদ অভির শোকাহত মা শিরিন আকতার কান্না জড়িত কণ্ঠে তার একমাত্র ছেলে হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার দাবী করেন। অভির চিহ্নিত খুনীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান। মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভি হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে মহানগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ বলেন, অবিলম্বে চিহ্নিত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে, না হয় আমরা রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বো। উক্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৩০ জুন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সারা পৃথিবী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন পরিচিত মানুষগুলোর মৃত্যুর সংবাদ শুনতে শুনতে চোখের পানি আর ধরে রাখা যায় না। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু মানুষ বিনা দ্বিধায় সন্ত্রাসী ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব মানুষরূপী কিছু জানোয়ারের অনৈতিক মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল নেতা মীর সাদেক অভিকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে মেধাবী ছাত্রনেতা মীর সাদেক অভিকে।

গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, মীর সাদেক অভি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের একজন মেধাবী, পরিচ্ছন্ন ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। ব্যক্তি জীবনে তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণোচ্ছল একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবার মীর বাড়ির মরহুম মীর সাদেক এলাহী'র একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন তিনি। পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সর্বদা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি সবসময়ই সমাজের অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজকে সর্বনাশা মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের জীবন হারিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মম ছুরিকাঘাতে।


গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান ভোটার বিহীন সরকারের অবহেলা ও বিভিন্ন মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বাংলাদেশে মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে রুপান্তরিত হয়েছে। প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও দেখা যায় তারা ক্ষমতার জোর খাটিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও তাদের কাজ করতে থাকে। এমতাবস্থায় দেশের সচেতন মানুষ, প্রশাসন, সাংবাদিক, পেশাজীবি, ব্যবসায়ী সহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরের মানুষ যখন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তখন আমাদের সমাজেরই কিছু অসাধু মানুষ অত্যন্ত ঘৃণিত ভাবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদুপরি চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ এলাকাতেও এই অসাধু লোকদের সমন্বয়ে মাদক ব্যবসার রমরমা অবস্থা বিরাজ করছিলো। যার কারণে মীর সাদেক অভি সহ আগ্রাবাদ এলাকার স্থানীয় লোকজন মিলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। তাদের এই প্রতিরোধের মুখে মাদক ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে না পেরে অবশেষে মীর সাদেক অভির মতন একজন মেধাবী ছাত্রনেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে।


গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, যার ধারাবাহিকতায় বিগত ১৫ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মীর সাদেক অভি উত্তর আগ্রাবাদ হাজীপাড়া হয়ে মোটরসাইকেল করে মিস্ত্রিপাড়া নিজ বাড়ির দিকে আসছিলেন। এসময় হাজীপাড়া এলাকায় অভিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মাদক সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে তার উপর হামলে পড়ে এবং তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তার শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তখন এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন এবং অভিকে উদ্ধার করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করেন এবং চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি একটু সুস্থ হয়ে উঠলে তার উপর হামলাকারী সেই মাদক সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করেন এবং বিগত ১৮ জুন তিনি নিজে বাদী হয়ে নগরীর ডবলমুরিং থানায় ঘাতক বাবু, তুহিন এবং টিটুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তিনি কোন হাসপাতালে না থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু হয়ত ভাগ্য তার সহায় হয়নি। ঘাতকের আঘাত তাকে ভিতরে ভিতরে নিঃশেষ করে ফেলেছিলো। যার ফলশ্র“তিতে তিনি গত ২৪ জুন মিস্ত্রিপাড়া নিজ বাসভবনে ঘাতকের ছুরির আঘাতের কাছে পরাজয় স্বীকার করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতকের নির্মম ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো উদীয়মান এক নক্ষত্রের। দেশ হারিয়েছে সম্ভাবনাময় এক উদীয়মান তরুণ এবং দল হারিয়েছে মেধাবী এক ছাত্রনেতাকে। এ ঘটনায় শুধু অভির মৃত্যু হয়নি, মৃত্যু হয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা প্রতিটি বলিষ্ঠ কন্ঠের।


গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের মাদক বিরোধী নায়ক মীর সাদেক অভির অকাল মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সর্ব মহলে যখন ঘৃণা ও নিন্দার ঝড় বইছে তখন এই ঘাতক মাদক সন্ত্রাসীরা কীভাবে এখনো গ্রেপ্তার না হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে? পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা কিভাবে পালিয়ে থাকতে পারে? প্রশাসন কি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে? আমাদের মনে এমন অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা তারপরও প্রশাসনের উপর ভরসা রাখতে চাই। প্রয়োজন শুধু আন্তরিক প্রচেষ্টার। একজন পুত্রহারা মায়ের আর্তনাদ কি তারা শুনেন না? একজন স্বামীহারা স্ত্রীর আহাজারি কি তাদের একটুও বিচলিত করে না? পিতৃহারা একটি ছোট্ট শিশুর নিষ্পাপ চেহারার দিকে তাকিয়ে হলেও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদেরকে খুনীদের গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি প্রশাসন চাইলে এই খুনিদের খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবেন।


গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাপ্তি ঘটেছে মাদক সন্ত্রাসীদের নির্মম ছুরিকাঘাতে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবী জানায়। আজকে যদি অভির মতো এক প্রতিবাদী কন্ঠ ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয় তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ সমাজের এই অসাধু লোকগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না। দেশ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে প্রতিবাদী কন্ঠগুলো। তাই আমরা চাই অভি হত্যার বিচার করার মাধ্যমে সমাজে একটি মাদক বিরোধী দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হউক।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, উপস্থিত ছিলেন শহীদ মীর ছাদেক অভির মা শিরিন আকতার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর ছাত্রদল নেতা মো. মহসিন কবীর আপেল, আবু বক্কর সিকদার, এস এম রুম্মান আজফার, রিফাত হোসেন শাকিল, সামিয়াত আমিন জিসান, আবদুল্লাহ আল হাসান সোনামানিক, কুতুব উদ্দীন নয়ন, কামরুল হোসেন কুতুবী, এন. কে রিয়াদ, এন. মো. রিমন, গাজী মো. শওকত, কাইমুর রশীদ বাবু, রবিউল হোসেন বাবলু, আরশে আজিম আরিফ, ইফাদ আহমেদ রাসেল, মঈনুল ইসলাম আরমান, মুনির আবদুল্লাহ রাফী প্রমুখ।



 
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম// এন //  







পাতার আরও খবর


  • সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
    ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক: শঙ্কর মৈত্র, নির্বাহী সম্পাদক: বরুণ ভৌমিক নয়ন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের, ঢাকা অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৯১১৯১১৬, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮, চট্টগ্রাম অফিস- আবাসিক সম্পাদক: জাহিদুল করিম কচি, নাসিমন ভবন (দ্বিতীয় তলা) ১২১, নূর আহমেদ রোড, চট্টগ্রাম ফোন: ০৩১-২৫৫৭৫৪২ হটলাইন: ০১৭১১-৩০৭১৭১, E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com, Developed by i2soft Technology Ltd.
    Close