জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পরও সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। মামলা করা হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। ইফতারের পরও হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না জামায়াত কর্মীরা। গত শনিবার চুয়াডাঙ্গায় ইফতারের পর হামলা করা হলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহতসহ এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। বিজয়ী দল দ্বারা পরাজিত দলের উপর এমন অমানবিক নির্যাতনের নজির আর নেই।
রোববার সন্ধ্যায় নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, চূয়াডাঙ্গায় দুটি আসনে জামায়াত জয় লাভ করেছে। কই জামায়াততো কোথাও কারো গায়ে হাত দেয়নি। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা মুখে বলে সেই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরে রোজার মাস এতো দু:খ কষ্টের মাধ্যমে শুরু হবে আমরা আশা করিনি।
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় জামায়াতের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু বিজয়ীরা তাদের উপর হামলা করেছে। বিনয়ী জামায়াত প্রার্থীরা কোন সহিংসতা তৈরি করেনি। শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমরা যদি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে এতো ছাত্রজনতার রক্ত বৃথা যাবে, তাদের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হবেনা, সেই প্রত্যাশা অধরা থেকে যাবে। এসময় তিনি সরকারের কাছে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, আজ সারাবিশ্বে মুমিনদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ইহুদি জায়নবাদী আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে মুসলিম বিশ্বের উপরে হামলা করেছে। তারা আজ সারাবিশ্বে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ইরানের সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী, তার মেয়ে, তার নাতী, তার জামাতাসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনকে একের পর এক হত্যা করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ইসরাঈল ও আমেরিকা একের পর এক হামলা করে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী স্বাধীনতা যোদ্ধাদের, সেনাপতিদের হত্যা করেছে। ইসলামের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম থেকে আজ বলতে চাই, জায়নবাদী, সাম্রাজ্যবাদী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহ একটি গোষ্টি, একটি আত্মা, একটি হৃৎপিণ্ড। সেটি আজ ক্ষতবিক্ষত, আঘাতপ্রাপ্ত। আমরা সরকারকে মুসলিম উম্মাহ’র পক্ষে যথাযথ ভূমিকা নিতে বলব। সেইসাথে আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মুসলিম উম্মাহ’র পক্ষে সরকারকে নিন্দা প্রস্তাব নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, জামায়াত নেতা ডা. আবু নাসেরসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//