Advertisement
পদ্মা ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি
Publish: Saturday, 18 July, 2026, 5:45 PM

সম্প্রতি পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা,  আর্থিক সুশাসন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন সূত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তালহাকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাংকের কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সকল অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখোমুখি ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ করাও ন্যায্য সাংবাদিকতার অংশ।

২০১৩ সালে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড নামে যাত্রা শুরু করা এবং ২০১৯ সালে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড নামে পুনর্নামকরণ করা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট, তারল্য ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগের মুখে রয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সাম্প্রতিক অভিযোগ, শাখার নাম, অবস্থান কর্মসূচির নির্দিষ্ট তারিখ এবং আর্থিক অঙ্কের কিছু অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ব্যাংকটির একাধিক আমানতকারী অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে নিজেদের আমানতের অর্থ তুলতে পারছেন না। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, “আমরা সময়মতো টাকা তুলতে পারছি না” এবং “আমাদের আমানত ফেরত চাই”—এমন বক্তব্য তাঁরা বারবার তুলে ধরছেন। এই বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের দাবি; ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ফারমার্স ব্যাংকের সময়কার বড় ধরনের ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তবে “বড় ধরনের” অনিয়মের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ঋণের সংখ্যা বা টাকার অঙ্ক এই প্রতিবেদনের জন্য যাচাই করা যায়নি। অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ, পুনর্গঠন এবং নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বহু আমানতকারী তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু অবস্থান কর্মসূচির নির্দিষ্ট তারিখ, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং কোন শাখা বা কার্যালয়ের সামনে তা হয়েছে, সে তথ্য এই প্রতিবেদনে যাচাই করা যায়নি। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বৈধ আমানত ফেরত পাচ্ছেন না, ফলে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক জীবনে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।


ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, তারল্য সংকটের কারণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত সিদ্ধান্তসমূহ স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রয়োজনীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে, ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তালহার নেতৃত্বে ব্যাংকের চলমান কার্যক্রম, তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদ এবং অতীতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং প্রয়োজনে অন্যান্য আইনানুগ সংস্থার মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে যে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে। বহু আমানতকারী অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা সময়মতো তাঁদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। বিভিন্ন শাখায় স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গণমাধ্যমে আরও প্রকাশিত হয়েছে যে, ব্যাংকটি অতীতে বড় ধরনের ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে এবং বর্তমানে পুনরুদ্ধারে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বহু আমানতকারী প্রকাশ্যে তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এ অবস্থায় জনস্বার্থে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।





এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//








Advertisement


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ