ডারউইন টেস্টে ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে মাটিতে নামিয়ে নাকানিচোবানি খাইয়ে পেয়েছে ৯ উইকেটের দারুণ এক জয়। দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এই জয়ের কথা। ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষেই জয়ের সুবাস পাওয়া যাচ্ছিল।
তবুও দুই দিন বাকি থাকায় বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল পা হড়কানোর। অতীতে এমন ম্যাচে এরকম পরিস্থিতিতে বহুবার ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে এবার সেসব হলো না। হেসেখেলে ৯ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে চলে যায় টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় – আহা! এমন মধুরতম দিনও দেশের ক্রিকেটে আসবে কে ভেবেছিল কবে? যা স্বপ্নেও ভাবা যেত না, তা বাস্তবে ঘটেছে। এমন দারুণ জয়ে ক্রিকেটবিশ্ব মেতেছে বাংলাদেশের প্রশংসায়।
বরাবরই বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন বড় সমর্থক ভারতের প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। বহুবার বহু জায়গায় বাংলাদেশ নিয়ে দারুণ সব ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন হার্শা। এবারও থেমে নেই। এমন ঐতিহাসিক জয়ে হার্শাই যেন সবচেয়ে বেশি খুশি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে হার্শা ভোগলে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত পেয়েছে। তবে এখন ডারউইনে মাত্র যে অর্জনটা তারা করেছে এটার সাথে তুলনা করার মত খুব বেশি কিছু তারা আগে করতে পারেনি। আমি এই ম্যাচের একটু আগে ফিরে যেতে চাই। সবাই বলাবলি করছিল, এই ম্যাচ কি ৩ দিন পর্যন্ত যাবে? এই ম্যাচ কি ৪ দিন পর্যন্ত যাবে? বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা বলছিল আমরা ম্যাচটাকে ৫ দিন পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এরপর সেখান থেকে তারা যা করে দেখালো, দুর্দান্ত। ’
বাংলাদেশ দল নিয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা জানালেন হার্শা, ‘কিছু কারণে আমি এই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত। আমি অনেকবার মাঠে গিয়েছি অনেক ম্যাচ দেখেছি যেখানে বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার মত পরিস্থিতিতে চলে গিয়েও (জিততে পারেনি)। ২০০৬ সালে ফিরে গেলে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই বাংলাদেশে একটি টেস্ট ম্যাচে জেতার সুযোগ সৃষ্টি করলেও তারা জিততে পারেনি। প্রায় অসম্ভব একটি ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতে নিয়েছিল। এবার আমি কেবল দেখতে চেয়েছিলাম ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার পর তারা কী করে। তরুণ তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি দেখে আমি অনেক আনন্দিত হয়েছি। আমরা অনেক দিন ধরেই তার কথা শুনছি। সে দারুণ একজন সাদা বলের প্লেয়ার। তবে লাল বলেও সে যেই টেম্পারমেন্ট দেখালো, খুব খুব ভালো ছিল। ’
হার্শা ভোগলে বলে যান, ‘মুমিনুল হক, যে কিনা লাল বলের নিয়মিত প্লেয়ার, তার সাথে তানজিদ যে জুটিটা গড়লো সেখানেই আসলে ভিত্তিটা গড়ে দেওয়া হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়াকে বার্তা ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল তোমরা ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছো দেখেই আমরা ১২০ রানে অলআউট হয়ে যাব না। এরপর তাদের অনেক দিনের সেরা ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত, সবার দিক থেকেই অবদান ছিল, মুশফিকুর রহিমও ভালো করেছে। মেহেদী হাসান মিরাজ তাদের দলকে এমন একটি সুবিধা দিচ্ছে যেটা সাকিব আল হাসান আগে দিত। তবে লেজের দিকের ব্যাটারদের অবদানও ভুলে গেলে চলবে না। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ সবাই ব্যাট হাতে দলে অবদান রেখেছেন। হয়ত তাদের রান ২০ পার করেনি, তবে এগুলোও দরকার ছিল। ’ডারউইন মহাকাব্যের পর এবার দ্বিতীয় টেস্ট সাউথ ম্যাকায়ে, আগামী ২২ আগস্ট। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//