Publish: Monday, 31 August, 2026, 1:16 PM Update: 31.08.2026 1:18 PM
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লারাক দ্বীপে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থান থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমা ও আঞ্চলিক নানা লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে একযোগে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু ও রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই বিধ্বংসী আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা প্রেস টিভি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে থাকা ওয়াশিংটনের একাধিক নৌযানকে নিশানা বানিয়ে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
সংবাদ চ্যানেলগুলোতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সিরিকে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের খবরও প্রচার করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রণালিতে চালানো ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সঙ্গেই এসব বিকট শব্দের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
মার্কিন অভিযানের কড়া জবাব নিশ্চিত করে ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘আরেকবার আমাদের প্রতিরোধ আর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে আসবেন না, এতে আরও চড়া মাশুল গুনতে হবে। আমাদের ধ্বংসাত্মক জবাব কিন্তু আসছেই, এখন কেবল দৌড়ান!’ তিনি হুঁশিয়ার করে আরও জানান, নতুন অপরাধের জন্য আমেরিকা ও তার দোসরদের এমন শিক্ষণীয় সাজা দেওয়া হবে যা তাদের চূড়ান্ত পরাজয়ের রাস্তা ত্বরান্বিত করবে।
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পয়েন্ট লক্ষ্য করে ঝটিকা বিমান হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানায়, লারাক দ্বীপে জাহাজবিধ্বংসী ও মাইনবাহী রকেট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলেই ওয়াশিংটন সেই ঘাঁটি লক্ষ্য করে জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো এই হামলার ঘটনা ঘটল ।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই মার্কিন ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করে সর্বাত্মক বদলা নেওয়ার ঘোষণা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছায়। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রচেষ্টায় জুনে দুই পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিবাদ কেন্দ্র করে জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পূর্ণমাত্রায় নৌ-অবরোধ ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//