Advertisement
চল্লিশের পর প্রোটিন জরুরি কেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
Publish: Tuesday, 31 March, 2026, 2:05 PM

বার্ধক্যের ধারণাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। লক্ষ্য বদলে গেছে, এআর শুধু বেশিদিন বেঁচে থাকাটা মুখ্য নয়, বরং পরিপূর্ণ, উদ্যমী এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করাটাই মূল লক্ষ্য। চল্লিশের পরের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগের প্রজন্মের একই বয়সের মানুষের তুলনায় আজকের মানুষ অনেক বেশি সক্রিয়, সচেতন এবং নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক বেশি সতর্ক। চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোঠায় থাকা ব্যক্তিরা এখন আর ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন না; বরং, তারা নিজেদের জীবনকে আরও উন্নত করতে সক্রিয় হচ্ছেন। এই বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খাদ্যের সঙ্গে এক নতুন সম্পর্ক।

আমরা কতটা সুস্থভাবে বার্ধক্যে পৌঁছাব, তাতে পুষ্টি একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করে চল্লিশের দশকেই এই সম্পর্ককে আরও গভীর করা প্রয়োজন। একটি সুষম খাদ্যতালিকা অপরিহার্য হয়ে ওঠে, এর বাইরে শরীরের জন্য যা ক্রমশ প্রয়োজন তা হলো প্রোটিনের ওপর সচেতনভাবে মনোযোগ দেওয়া। পর্যাপ্ত প্রোটিন ছাড়া শরীর ধীরে ধীরে পেশী হারাতে থাকে, যা শক্তি, সচলতা এবং সার্বিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।

আগে প্রোটিনকে মূলত ক্রীড়াবিদ, বডিবিল্ডার বা বাড়ন্ত শিশুদের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। তবে জীবনের সকল পর্যায়ে পেশী শক্তি, সচলতা এবং সার্বিক প্রাণশক্তি বজায় রাখার জন্য প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রোটিন এখন আরও উদ্দেশ্যমূলক এবং অর্থবহ খাদ্যাভ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে, বিশেষ করে ৪০-এর কাছাকাছি এবং তার বেশি বয়সী সুস্থ বয়স্কদের মধ্যে, যারা সক্রিয়ভাবে এটি গ্রহণ করছেন।

৪০-এর পরে প্রোটিন কেন অপরিহার্য হয়ে ওঠে


বেশিরভাগ ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস মূলত শস্য-কেন্দ্রিক, যেখানে কার্যকরী পুষ্টির চেয়ে তৃপ্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। যদিও এই ধরনের খাবার শক্তি জোগায়, তবে এতে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব থাকে, যার ফলে দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। একটি মেডিকেল রিসার্চ (ICMR-NIN, 2024) অনুসারে, প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ০.৮-১.০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, এবং বয়স্কদের জন্য এর চাহিদা আরও বেশি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে ৭০%-এরও বেশি মানুষ এটি পূরণ করতে ব্যর্থ হন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ অনেকটা হ্রাস পায়।



এই ঘাটতি ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং এর ফলে পেশীর পরিমাণ কমে যায়, রোগ থেকে সেরে উঠতে দেরি হয়, ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন শক্তি ও স্বনির্ভরতা হ্রাস পায়। বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো পেশীর পরিমাণ এবং শক্তির ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া, এই অবস্থাকে সারকোপেনিয়া বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায়, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা বাজার করার জিনিসপত্র বহন করার মতো সাধারণ কাজগুলোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বার্ধক্যকালে, শরীরে অ্যানাবলিক রেজিস্ট্যান্সও দেখা দেয়, যেখানে কঙ্কাল পেশীগুলো টিস্যু তৈরি ও মেরামতের জন্য খাদ্য থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ব্যবহারে কম দক্ষ হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, পেশীর ক্ষয় রোধ করতে এবং শক্তি ও শরীরের অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো বজায় রাখতে অধিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণের প্রয়োজন হয়।


দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি

সুস্থ বার্ধক্য মানে চরম ডায়েট বা স্বল্পমেয়াদী সমাধান নয়, এর মূল বিষয় হলো এমন ধারাবাহিক ও টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সহায়তা করে। সাধারণ ও পরিচিত খাবারের অদলবদলই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ গমের আটার পরিবর্তে প্রোটিন-সমৃদ্ধ বা প্রোটিন-বর্ধিত আটা ব্যবহার করা, খাবারে পনির, সয়া বা প্রাণিজ প্রোটিন যোগ করা, ধীরে ধীরে দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এই পরিবর্তনগুলোর বাইরে, দিনের সবচেয়ে ভারী খাবারগুলো বিশেষ করে সকালের নাস্তা এবং রাতের খাবার নিয়ে নতুন করে ভাবা সবচেয়ে কার্যকর পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি। 

শর্করা-বহুল সকালের নাস্তার পরিবর্তে হোল-গ্রেইন ওটসের মতো বিকল্প বেছে নিতে পারেন, যা প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন এবং দ্রবণীয় ফাইবার সরবরাহ করে, এটি একটি ছোট পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। এই ধরনের অভ্যাস শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে, গ্লুকোজের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে, পেশী ও হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং দিনের বাকি অংশের জন্য একটি শক্তিশালী পুষ্টির ভিত্তি তৈরি করে। খাবারে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত সিরিয়াল, প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা এবং প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন-সমৃদ্ধ উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি সুষম প্লেটে বিভিন্ন বেলার খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চ-মানের প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকা উচিত।



এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//







Advertisement


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ