Advertisement
ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে : শিল্পমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
Publish: Saturday, 8 August, 2026, 8:55 PM

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, মাইক্রো, কুটির ও মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এসব শিল্পের প্রসার ঘটলে অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আয় বৈষম্য কমে আসবে। 

শনিবার বগুড়া বিসিক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী  এসব কথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে ব্যবসায় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বর্তমানে জিডিপির প্রায় ৩৬ শতাংশ। 

এই হার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ আরও সচল হবে। একই সঙ্গে আয় বৈষম্য কমবে। কারণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তখন আরও বেশি মানুষ সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র, মাঝারি, মাইক্রো ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো। 
অর্থনীতির পুরো প্রাণপ্রবাহে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা যত বাড়বে, অর্থনৈতিক সুফল তত বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ’

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াশিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ দুই খাতে ডিজাইন ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ভৌত অবকাঠামোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতালি, জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ডিজাইন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন অপারেটরদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 

বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার পাশাপাশি সৈয়দপুরও এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রেলওয়ে জংশন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৈয়দপুর একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হাব। এ অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের জন্য ওই কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

বাংলাদেশের শিল্প কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মতো অর্থনীতিতে শ্রমঘন শিল্পের গুরুত্ব অনেক বেশি। হাইটেক ও অধিক পুঁজিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার পরিমাণ বেশি হলেও সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। বিপরীতে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প শ্রমঘন এবং কম পুঁজিনির্ভর। 

তিনি বলেন, ‘১৩-১৪ শতাংশ সুদে কম পুঁজির ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। ’জ্বালানি সরবরাহ সহজলভ্য করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পের জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতে তৈরি হওয়া নানা জটিলতা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সময়ের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা যে অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেটি এমন জটিল যে ফুঁ দিয়ে এর সমাধান করা যাবে না। এর জন্য সময় দরকার, কঠিন বাস্তব পরিকল্পনা দরকার এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দরকার। ’




এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//






Advertisement
আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ