‘সাংবাদিক হোক বা যে-ই হোক, চাঁদা না দিয়ে কাজ করা যাবে না’- এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার হারুন বাহিনীর বিরুদ্ধে। নিজের ক্রয়কৃত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ চৌধুরী। তার অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে ‘হারুন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি চক্র কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
চাঁদা দাবির বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একাধিক কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার (২২ আগস্ট) সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সোহেল মাহমুদ চৌধুরী। অভিযোগে হালিম (৪৫), ইসমাইল (৩৮), মো. ইব্রাহিম (৩৪), মো. মাইনউদ্দিন (৩৭)সহ আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী থানার চৌধুরী নগর এলাকায় নিজের ক্রয়কৃত জায়গায় শনিবার সকাল থেকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন সোহেল মাহমুদ চৌধুরী। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং হুমকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, জায়গাটিতে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন কৌশলে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রথম দিকে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হলেও পরে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এসব কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে জানান, স্থানীয় নেতা আবদুল আল হারুনের সঙ্গে কথা না বলে সেখানে নির্মাণকাজ করা যাবে না। অভিযোগকারীর দাবি, সর্বশেষ তাকে বলা হয়—আবদুল আল হারুনকে চাঁদা দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
শুধু তাকে নয়, ‘সাংবাদিক হোক বা যে-ই হোক, চাঁদা না দিয়ে কাজ করতে পারবে না’—এমন বক্তব্যও অভিযুক্তরা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সোহেল মাহমুদ চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তার ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোহেল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিজের ক্রয়কৃত জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়েই তিনি এ ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিক হলেও যত স্কোয়ার ফুট কাজ হবে প্রতি স্কোয়ারের জন্য ২০ টাকা করে দিতে হবে। এছাড়া ইট, বালু ও কংক্রিট সহ যত মালামাল লাগবে তাদের রেট অনুযায়ী তাদের থেকে নিতে হবে। তাদের বক্তব্য, সাংবাদিক হোক বা যে-ই হোক, চাঁদা এবং তাদের থেকে মালামাল না নিলে কাজ করা যাবে না। চাঁদা দাবির বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার একাধিক কথোপকথনের কল রেকর্ড রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব রেকর্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তুলে দেবে বলেও জানান তিনি।”
অভিযোগকারী আরও জানান, হুমকির কারণে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। ভয়ের কারণে থানায় অভিযোগ করতেও কয়েকদিন বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজে বাধা এবং হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সোহেল মাহমুদ চৌধুরী।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে নাম আসা আবদুল আল হারুনের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//