যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জন র্যাটক্লিফ গোপনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি মস্কোয় পৌঁছান বলে জানা গেছে। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য বা কার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা মস্কোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) একটি বড় মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাটভিয়া হয়ে রাশিয়ায় যায়। উড়োজাহাজটি মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং পরে একই দিন লাটভিয়ার রিগায় ফিরে যায়।
বিমান চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি রিগা থেকে স্থানীয় সময় ভোরে রওনা হয়ে মস্কোয় পৌঁছায়। পরে বিকেলের দিকে সেটি রিগায় ফিরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মস্কোর একটি বিমানবন্দরের দিকে ওই সামরিক পরিবহন বিমানের এগিয়ে যাওয়ার ভিডিওও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি মস্কোর সড়কে একটি কূটনৈতিক গাড়িবহরের ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানায়, দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মস্কো সফর করবে। প্রতিনিধি দল রাশিয়া থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইউক্রেনকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে সিবিএসকে জানিয়েছেন ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
জন র্যাটক্লিফের জন্য এটি সিআইএ প্রধান হিসেবে প্রথম রাশিয়া সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় তার গোয়েন্দা সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠক সাম্প্রতিক সময়ে খুবই বিরল। ফলে র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মস্কোয় সাবেক ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা জন ফোরম্যান বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে বলেন, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ। সম্প্রতি জার্মানিতে দেখা দেওয়া সন্দেহজনক ড্রোন তৎপরতার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ফোরম্যান আরও বলেন, রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে। এর আগে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দিবিনিময় আলোচনায় র্যাটক্লিফ ভূমিকা রেখেছেন।
রাশিয়ায় এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক কেসেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনাতেও র্যাটক্লিফ ভূমিকা রেখেছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিবিনিময়ের সময় মার্কিন সাংবাদিক ইভান গারশকোভিচ, সাবেক মার্কিন নৌসেনা পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভাসহ কয়েকজনের মুক্তির প্রক্রিয়ায় সিআইএ যুক্ত ছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে। রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে র্যাটক্লিফের মস্কো সফরকে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে সেই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//