ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের ধোঁয়া তুলছে। এই উদ্যোগ নিয়ে তার নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলও মাসের পর মাস ধরে অভ্যন্তরীণভাবে গভীর প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে, কেন ইরানের জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করছে না?
চলমান এই যুদ্ধের শুরুতেই ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ভরসা রেখে তিনি ধারণা করেছিলেন যে, তেহরানে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বিমান হামলার পর নাগরিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করবে। তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে এই ফলাফলের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়ায় অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা এ নিয়ে বেশ সংশয়ে ছিলেন। তবুও যুদ্ধ শুরুর প্রথম রাতেই ট্রাম্প ইরানি জনগণের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে সরকার পতনের ডাক দেন এবং একে প্রজন্মের মধ্যে একমাত্র সুযোগ বলে আখ্যা দেন।
তবে সেই চিন্তা দ্রুতই আড়ালে চলে যায় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা বেশি অগ্রাধিকার পায়। জুন মাসের দিকে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি ইরানের রেজিম চেঞ্জ নিয়ে কখনই মাথা ঘামাননি। তিনি সেসময় উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন খুব যুক্তিবাদী মানুষের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং অন্য দেশের সরকার উৎখাতের মার্কিন প্রচেষ্টা ইতিহাসে কখনই সফল হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের মনে এই প্রশ্ন সবসময়ই কাজ করছিল, তার সরকার উৎখাতের আহ্বান কেন কার্যকর হচ্ছে না।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের যাতায়াত যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরেনি এবং তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনীতি স্তব্ধ হয়ে গেছে। ফলে ছয় মাস আগে যে সরকার পরিবর্তনের চিন্তায় ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, আবার সেখানেই ফিরে এসেছেন। গত মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ইরানের জনগণ কখন জেগে উঠবে এবং লড়াই করবে?এই যুদ্ধ এখন এক ধরনের পরিচিত চক্র বা নির্দিষ্ট ধারায় আবর্তিত হচ্ছে। প্রায় এক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা গ্রীষ্মের শুরুর দিকের সেই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পুনরুল্লেখ করে ট্রাম্প গত বুধবারে জানান, প্রয়োজন পড়লে তিনি আরও বড় আকারের ধ্বংসাত্মক হামলার আদেশ দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি আরও জানান, এই চলমান যুদ্ধ বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলে তিনি মনে করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পর এই মুহূর্তে কোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সচল নেই। বরং ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতির ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং লড়াই দ্রুত শেষ করার কোনো তাড়াহুড়ো তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের অর্থনীতির চরম ধসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দলের অনেকেই চান, আসন্ন ক্যাপিটল হিল বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে এই যুদ্ধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যাক। ট্রাম্প দাবি করছেন তার নীতিতে নির্বাচনের কোনো প্রভাব নেই, কিন্তু সিনিয়র উপদেষ্টা এবং ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকান মিত্ররা সতর্ক করেছেন যে এই যুদ্ধ তীব্র হলে নির্বাচনের ফলাফলে তা বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বুধবার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ইরান আর কত চাপ সহ্য করতে পারে তা তার দেখার বিষয় নয় এবং এই নির্বাচনের পরোয়া তিনি করছেন না।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//