কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বাজারে ফের বেড়েছে সবজির দাম। সেই সঙ্গে মাছের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৮০ টাকার পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। এতে মাসের হিসাব মিলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর মালিবাগ বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ঝিঙা, ধন্দুল, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, কচু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাজিম মাহমুদ বলেন, আজ বাজার করতে এসে দেখছি সবজিগুলোর দাম বাড়তি যাচ্ছে। বলতে গেলে সব সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে তুলনামূলক কম ছিল, আজ দেখছি বাড়তি দাম।
সবজির দাম বিষয়ে সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। আজ পাইকারি সবজি কিনতে গিয়ে দেখি, পাল্লা প্রতি সব সবজির দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম যাচ্ছে বেগুনের, যার প্রতি কেজি ১৪০ টাকা। এ ছাড়া, পেঁপের দাম সবচেয়ে কম, যার প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বৃষ্টি থেমে গেলে আবার সবজির দাম কমে আসবে।
এদিকে শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামও কমেনি। প্রতি কেজি এখন ১৯০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছে, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিমপাড়া মুরগিসহ ব্রয়লার মুরগি মারা গেছে। পরে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণেও খামারে মুরগি পালন কমেছে। এসব কারণে বাজারে ডিম-মুরগির দাম কিছুটা বেশি।
এ ছাড়াও মাছে বাজারও বাড়তি। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা শরিফুদ্দিন বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ আমিষের চাহিদা মেটায় ডিম ও মুরগির মাধ্যমে। এই দুই পণ্যের দাম বাড়তি। তার ওপর এখন তেল ও আট-ময়দার দামও বেড়েছে। চাল, ডালসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে দাম বাড়ানোর পরও বাজারে স্বাভাবিক হয়নি সয়াবিন তেলের সরবরাহ। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল। চাহিদা মত তেল না দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন বিক্রেতারা। মুদি দোকানিদের অনেকেই বলছেন, অর্ডার দিয়েও তেল পেয়ে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
১১ নম্বর কাচাঁবাজারের মুদি দোকানি তামিম বলেন, অর্ডার দিলেও তেল দেয় না কোম্পানি। দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।
আরেক বিক্রেতা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত তেল তো দিচ্ছেই না, আবার লাভ দিচ্ছে একদম সীমিত। ১ লিটার তেল ১৯৮ টাকা কেনা, বিক্রি করতে হচ্ছে ১৯৯ টাকায়। এ অবস্থায় অনেকেই তেল বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//