ঢাকার গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ২৪ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
আরাফাত নামের একজনকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করায় তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—আ. রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।
ঢাকার গুলশানে মিছিলের পরদিন শনিবার ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে শনিবার পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মিছিলে ‘সরাসরি অংশগ্রহণকারী’।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার যারা হয়েছেন, তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি ওই বার্তায়।
শুক্রবার দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ’ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১১৮ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচটি কারণ দেখিয়ে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, ‘‘মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মূল রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের যোগানদাতা’ সম্পর্কে তথ্য জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।’’
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, ‘‘আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আরাফাতকে শিশু হিসেবে দাবি করেন তার আইনজীবী। পরে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’’
তিনি বলেন, “আরাফাতকে শিশু হিসেবে দাবি করায় রোববার কাগজপত্র জমা ও অধিকতর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।”
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, গুলশান থানা এলাকায় শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টায় কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে’ তারা সমাবেশের আয়োজন করেন।
মামলায় বলা হয়, ‘‘তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ককটেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।’’
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//