গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও সীমিত। অথচ নীতিনির্ধারণে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব অংশগ্রহণের মধ্যে থাকা দূরত্ব কমাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক করা প্রয়োজন।
এই অবস্থায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘আন্তঃপ্রজন্মীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা।“Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh (JoYEE)” ‘জয়ী’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তরুণদের ধারাবাহিক সংলাপের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আলোচনায় বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নারী অধিকারকর্মীরা অনলাইন ও বাস্তব জীবনে হয়রানি, হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরার সঞ্চালনায় সংলাপে সংগঠনটির প্রতিনিধি তাসফিয়া তাসনিম নাবিলা ও তাজমিম হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্যানেল আলোচনায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিরোধ দেখা গেছে। বিভিন্ন কমিশনে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোতে অন্তত ৫ শতাংশ নারী সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।
আদিবাসী অধিকারকর্মী হেমা চাকমা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জাতি, দল ও মতের ভিন্নতা নির্বিশেষে সবার সমতা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষক ও অধিকারকর্মী ওলিউর রহমান সান বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন না করেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে। দক্ষতার অভাবে অনেক তরুণ বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত।
আলোচনায় ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, প্রতিটি আন্দোলনের ক্ষেত্রে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলনের সময় যে বিপ্লবী ভাষা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এই ভাষা হারানোর মধ্য দিয়ে আবারও জাতিগতভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার এস এম সাইফ কাদের রুবাব বলেন, নাগরিক শিক্ষা অপরিহার্য। আগামী দিনের প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়নে নাগরিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
সংলাপে রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন তরুণ অংশীজন অংশ নেন।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//