বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগের উদ্যোগে এক সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সাহিত্য আসরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগীয় সম্পাদিকা নাজমুন্নাহার নীলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফরিদা খানম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি রেহেনা আক্তার রানু, অফিস বিভাগীয় সম্পাদিকা রাবেয়া আক্তার রুনু, খুলশী থানা সেক্রেটারি খাদিজা আক্তার, চট্টগ্রাম মহানগরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগীয় কমিটির সদস্যা নাজনীন আক্তার ডালিয়া ও নাজনীন আক্তার তানিয়া এবং মহানগরীর বিভিন্ন থানার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগীয় সম্পাদিকাবৃন্দ।
বিকেল ৩টা থেকেই লেখিকাদের আগমনে অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সঞ্চালিকা ইশরাত জাহানের সঞ্চালনায় কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সাহিত্য আসরের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সাহিত্য আসরের পরিচালিকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দায়িত্বশীলা রহিমা আক্তার রিংকু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সাহিত্য আসরের মূল আকর্ষণ ছিল লেখিকাদের স্বরচিত লেখা পাঠ। এ সময় লেখিকারা স্বরচিত কবিতা, গল্প, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ পাঠ করেন। তাদের পরিবেশিত বিভিন্ন লেখা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করে।
লেখিকাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন লেখার ওপর পর্যালোচনা করেন সাহিত্য আসরের পরিচালিকা রহিমা আক্তার রিংকু। তিনি লেখিকাদের বেশি বেশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজকে পরিশীলিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাহিত্যে ভাষার ব্যবহারে অত্যন্ত যত্নশীল ও মননশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সাহিত্য মানুষের চিন্তা, মনন ও মূল্যবোধকে প্রভাবিত করে। তাই লেখিকাদের দায়িত্বশীল ও সুন্দর সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগীয় সম্পাদিকা নাজমুন্নাহার নীলু বলেন, নজরুল, ফররুখ, আল মাহমুদ, মতিউর রহমান মল্লিক, আসাদ বিন হাফিজ প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকের রচনাবলি অনুসরণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সাহিত্যচর্চা করতে হবে।একজন লেখক তাঁর কলমকে স্রোতের অনুকূলে মিথ্যার দিকে ধাবিত করবেন, নাকি সত্যের শিক্ষা ও আদর্শকে বুলন্দ করার জন্য ব্যবহার করবেন—সে সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তিনি লেখিকাদের নিজ কলম ও সাহিত্যকে দাওয়াতি কাজের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সাহিত্যচর্চা মানুষের চিন্তা ও বিবেককে জাগ্রত করে। তাই সমাজে সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় লেখিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর সাহিত্য আসর আয়োজন এবং নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের পরামর্শ দেন।
সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফরিদা খানম বলেন, লেখিকাদের ইচ্ছাশক্তি ও আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে সাহিত্য আসরের কোনো বিকল্প নেই। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভাকে বিকশিত করার পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি লেখিকাদের নিয়মিত ক্ষুরধার লেখনী অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের হৃদয়ের প্রান্তর থেকে সমাজের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সুসাহিত্যের চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে। সাহিত্যকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর ও পরিশীলিত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। এ প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে সাহিত্য আসরের সমাপ্তি ঘটে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//