রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় বাবার মারধরে গুরুতর আহত দুই মাসের শিশু সাবিহা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটিকে মারধর ও গলায় চাপ দিয়ে আহত করে তার বাবা হৃদয় খান পালিয়ে যান।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
নিহত সাবিহা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বহেরাতলা গ্রামের হৃদয় খানের মেয়ে। বর্তমানে শিশুটি তার মা লাবনী আক্তার জান্নাতির সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোডের গৈদ্দারটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত।
শিশুটির মা লাবনী আক্তার জান্নাতি বলেন, ‘হৃদয় তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর প্রায় দেড় বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। সে একটি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করত।
আমাদের একটি কন্যাসন্তান হবে, সেটিও সে চাইত। পরে আমাদের মেয়ে হয়। ’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমরা একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর আগে মাঝেমধ্যে হৃদয় বলত, আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে। কখনো কখনো দেখতাম, সে যেন সবকিছু ভুলে যেত। তার মাথায় কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা বুঝতে পারতাম না। ’
লাবনী আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার দিন হৃদয় শিশুটিকে মারধর করে এবং গলায় চাপ দিয়ে আহত করেন। পরে বাসায় থাকা তাঁর ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। শিশুটির গলা ও গালে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা হৃদয় খানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//