তেহরান গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুইবার লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা আরেকটি জাহাজকে নিশানা করা হয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, এর জবাবে তেহরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তবে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকেই এ উত্তেজনা চলছে।
এদিকে এশিয়ায় দিনের শুরুতে লেনদেনে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলার হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরান থেকে জর্ডানের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
ইরান আরও পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “নোঙর করা অবস্থায় থাকুন বা বন্দরে থাকুন—অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে চলে যান, কারণ এগুলোকে নিশানা করা হবে।”
বিবিসি লিখেছে, ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিশানা করার পর সবশেষ এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ‘সফলভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে’ দাবি করে সেন্টকম বলেছে, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা যে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো “বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ, যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করে”।
সবশেষ মার্কিন হামলায় যে ইরানি তেলবাহী জাহাজটি আক্রান্ত হয়েছে, সেটি খার্গ দ্বীপের কাছে ছিল। এ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল রয়েছে।
দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মধ্য দিয়ে যায়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সেখানে আনা হয়।
বিস্তৃত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে তেলের দামের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা মঙ্গলবার সৌদি আরবে জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল স্থাপনা ও অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সবশেষ পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, পরিস্থিতি ‘বেশ সরল’।
কলম্বিয়ায় সফরের সময় তিনি বলেন, “ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
“আর তারা যতবার এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তারা ট্যাংকার হারাবে। এবং আমি মনে করি, আজও আপনি সেটি দেখতে পাবেন।”
যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার যখন হামলা চালায়, তার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন দখল করেছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, “মার্কিন বাহিনী পরিচালিত পানির নিচের ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে যায়।”
তিনি জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান অভিযানকে সহায়তা করতে ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বিকল ড্রোনটি ‘পুরোনো একটি মডেলের, এটি কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেনি এবং এতে কোনো গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না’।
তিনি এও জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//