Advertisement
বিএনপি-জামায়াতের সুপারিশে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায় এখন আওয়ামী লীগ
চট্রগ্রাম ব্যুরো
Publish: Thursday, 24 September, 2026, 11:05 PM

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এক নাম - উজ্জ্বল মজুমদার বাবলা। কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো জামায়াত, আবার প্রয়োজনে বিএনপি! নিজের স্বার্থে রঙ বদলানো এই ব্যক্তির বহুরূপী আচরণে খোদ বিরক্ত বিভিন্ন দলের তৃণমূল কর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে, উজ্জ্বল বাবলা আসলে কার?

অনুসন্ধানে জানা যায়, উজ্জ্বল মজুমদার বাবলা একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অবসরে গেছেন। চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তার সামাজিক সংগঠন দখলের দৌড়ঝাঁপ। এলাকায় এমন কোনো সংগঠন নেই যেখানে তিনি সভাপতি বা সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। সম্প্রতি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নিয়ে তার দৌড়ঝাঁপ এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহচর

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজ্জ্বল মজুমদার বাবলাকে সবাই লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবেই চেনে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে তার গভীর উঠাবসা ছিল। তাদের সাথে ছবি তুলে নিজের ক্ষমতার বলয় দেখাতে তিনি ফেসবুকে প্রচার করতেন। আওয়ামী লীগের এমন কোনো প্রোগ্রাম ছিল না যেখানে তিনি যেতেন না। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল আত্মার মতো।

ভোটের মাঠে প্রথম পল্টি

তবে ২০২৪ এর পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার আসল পল্টিবাজির রূপ দেখে এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলেই তিনি পল্টি নেন।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী যখন লোহাগাড়ার সনাতনী অধ্যুষিত প্রকাশ বড়ুয়া পাড়ায় ভোট চাইতে যান, তখন উজ্জ্বল বাবলা কয়েকজন এলাকাবাসীকে একত্রিত করে ভোটের বিনিময়ে স্কুলের সভাপতি পদ দাবি করে বসেন। তিনি নাকি বলেন, "আপনাকে ভোট দিতে পারি, তবে নির্বাচিত হলে আমাকে স্কুলের সভাপতি পদ দিতে হবে।"

ভোট শেষ হতেই শুরু হয় তার আসল খেলা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার এমপি শাহজাহান চৌধুরীর কার্যালয়ে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরে সভাপতি পদে সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। সেই সুপারিশপত্র নিয়েই তিনি স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের বলেন, "এখন থেকে সভাপতি আমি, আমাকে এমপি সাহেব সুপারিশ করেছেন।"

এরপর শুরু হয় তার দৌড়ঝাঁপ - কখনো প্রধান শিক্ষকের অফিস, কখনো ইউএনও অফিস, কখনো ডিসি অফিস, কখনো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের অফিস।

জামায়াত থেকে বিএনপিতে দ্বিতীয় পল্টি

যখন এমপির সুপারিশপত্র দিয়েও কাজ হচ্ছে না দেখলেন, তখন তিনি আবার বোল পাল্টে ফেলেন। জামায়াত সমর্থন থেকে সরে গিয়ে চলে যান বিএনপির কাছে। এবার তিনি যান বিএনপির সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের কাছে। সেখানেও একই কায়দায় অনুনয়-বিনয় করে একটি ডিও লেটারে স্বাক্ষর নিয়ে নেন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যে ব্যক্তি প্রয়োজনে পুরো সমাজকে বিক্রি করে দিয়ে কখনো জামায়াতের কর্মী, কখনো বিএনপির কর্মী সাজে, তার হাতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কতটা নিরাপদ?

আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতা প্রদর্শনকারী সেই উজ্জ্বল বাবলা এখন রাজনীতির মাঠে ত্রিভুজ প্রেমের রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার এই পদ বাণিজ্য ও ভোল পাল্টানোর রাজনীতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।







এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//








Advertisement
আরও খবর


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ