Advertisement
আসিফ মাহমুদের সময় ফেডারেশনে অনিয়ম, অযোগ্যদের উপস্থিতি বাড়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার:
Publish: Monday, 16 February, 2026, 1:15 PM

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাঠের উত্তেজনা যেমন আলোচিত, তেমনি প্রশাসনিক নীরব অন্দরমহলও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরের কার্যক্রম ও কমিটি গঠন নিয়ে যে অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরে যে আলোচনা, অভিযোগ এবং অদৃশ্য ক্ষমতার টানাপোড়েন সামনে এসেছে, তা শুধু সংগঠনগত দ্বন্দ্ব নয় বরং ক্রীড়া প্রশাসনের গভীর কাঠামোগত বাস্তবতার এক উন্মোচন। 

ক্রীড়া মহলে অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সময় ক্রীড়া প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে নানা মহলে অভিযোগ, তার সময়কালে একাধিক ফেডারেশনে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের আধিক্য বেড়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি, তবু ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় অভিযোগটি যেন স্থায়ী হয়ে গেছে। ক্রীড়া প্রশাসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত কমিটি গঠনের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, সজীবের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত স্টাফ মাহফুজ আলম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন ফেডারেশনে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।

কখনো রাজনৈতিক প্রভাব, কখনো আর্থিক লেনদেন, আবার কখনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের বলয়-এই সব কিছুর সমন্বয়ে অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুত অনুমোদন পেত। ফলে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে প্রভাবের শক্তিই বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছিল, এমন অভিযোগ ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে ‘কমিটি রাজনীতি’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় বিষয়টি আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি প্রবণতা বলেই মনে করছেন অনেকে।


অভিযোগ আছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের নামে। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া কোনো ফেডারেশনের কমিটির পরিবর্তন হয় না। ফলে তাদের সমর্থন ছাড়া কমিটি পুনর্গঠন বাস্তবে সম্ভব ছিল না। ক্রীড়া মহলের আলোচনায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

ফেডারেশনগুলোর ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে অনেক কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক ধরনের অস্বস্তিকর চিত্র। ক্রীড়া প্রশাসনে সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা গেছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, এমন অভিযোগ রয়েছে। খেলোয়াড় ও কোচদের মতামত গুরুত্ব পায়নি। ফলে ধীরে ধীরে কিছু ফেডারেশন খেলাধুলার উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়ে পরিণত হয়েছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।


নির্বাচনের পর এখন আলোচনায় এসেছে পরিবর্তনের আভাস। কিছু ফেডারেশনে পদত্যাগ, পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, কারও মতে প্রশাসনিক চাপ, কারও মতে রাজনৈতিক বাস্তবতার রূপান্তর, আবার অনেকে বলছেন, এটি দীর্ঘদিন জমে থাকা অসংগতির স্বাভাবিক পরিণতি।

একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মাঠের সাফল্য যেমন দর্শকদের উল্লাস এনে দেয়, তেমনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনে স্থায়ী উন্নয়ন। প্রশ্ন এখন শুধু একটি-এই পরিবর্তনের স্রোত কি সাময়িক ঢেউ, নাকি সত্যিই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা?


এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//






Advertisement


Advertisement
সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামকে বিলবোর্ডমুক্ত করার ঘোষণা: কাজীর দেউরীতে উচ্ছেদ অভিযানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
গণভোটের ‘হ্যাঁ’—এর জন্য শপথের কোনো প্রয়োজন নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী
সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে কবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গোপনে মবকে প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
গোপনে মবকে প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
ওয়াসায় কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিভ্রান্তি, সংগঠনের প্রতিবাদ
মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ববি হাজ্জাজ
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করছে বিএনপি, ডাক পেলেন যারা
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট সময় এখন সামনে চলার
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : abnews13@gmail.com, Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ