Publish: Friday, 13 March, 2026, 1:51 AM
চট্টগ্রামের ডিসি হিলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিবর্ণ চরণচিহ্ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘নজরুল স্কয়ার’ নতুন করে সাজানো হয়েছে।
বুধবার ডিসি হিলের পূর্ব প্রান্তে কবির নতুন স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। এ নিয়ে ৯ জানুয়ারি ‘চট্টগ্রামে চকচকে ডিসি হিলের গেট ও সড়ক : ভাঙাচোরা ও মলিন কবি নজরুলের চরণচিহ্ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নজরুল সংস্কারে কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ডিসি হিলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই পার্কের এরিয়া মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নজরুল স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় রাস্তা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকওয়ে অনেক বেশি উঁচু হয়ে যায়। বিদ্রোহী কবির মনুমেন্ট অনেক নিচু হয়েছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। তখনই মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও যদি কখনো কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তিনি অনুপ্রেরণা হবেন। তাকে সেই সম্মানের জায়গায় রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে নতুনভাবে সাজিয়েছি। যাতে তরুণ প্রজন্ম দেখতে পারে কার লেখনি তাদের আন্দোলিত করছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমনই ছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমন ছিল। আবার চব্বিশের আন্দোলনেও বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা একই রকম ছিল। ডিসি হিলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এখানে বয়স্করা সকালে হাঁটতে আসেন। অনেকে বেড়াতে আসেন। এজন্য পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করেছি। বসার ব্যবস্থা করেছি। সামনে একটি ওয়াশ ব্লক করা হবে। যাতে সুন্দরভাবে আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ রিক্রিয়েশন পায়। ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কি না-এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিসি হিলের এই নজরুল স্কয়ারের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে। সেই কর্মকাণ্ড যাতে আরও বেগবান হয়, এজন্যই আমরা এটাকে সুন্দরভাবে সাজাচ্ছি। লিমিটেশন হচ্ছে, এখানে যে স্পেস আছে তার বেশি তো আমরা দিতে পারব না। একটা প্রতিষ্ঠান একদিন একটা অনুষ্ঠান করবে। পরের দিন আরেকটা করবে। কিন্তু একসঙ্গে দুই-তিনটা প্রতিষ্ঠান এলে তো করতে পারবে না। এটাই লিমিটেশন। ২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে ‘অপরিচ্ছন্নতার’ কারণ দেখিয়ে সে সময়ের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিসি হিলে বছরে তিনটি ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান আয়োজন না করার আহ্বান জানান। ওই তিন অনুষ্ঠান হলো-পহেলা বৈশাখ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী। এরপর থেকে ডিসি হিলে আর কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//