লোডশেডিং ও বেশি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করে আলোচনায় আসা গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহর বাসার বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়নি বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাটির তদন্তে দেখা গেছে, বাসাটিতে থাকা তিনটি মিটারে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, সেই হিসাবেই বিল করা হয়েছে।
সিফাত আব্দুল্লাহর অভিযোগ ছিল, গত দুই মাসে তাঁর বাসার বিদ্যুৎ বিল ১০ হাজার টাকার বেশি এসেছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিল বেশি হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করেন তিনি।
এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার করা হয় সিফাতকে। গত ৪ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিফাতের বাসার বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিফাত আব্দুল্লাহর বাবার নামে থাকা দুইতলা বাড়িটিতে তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে।
এসব মিটারে জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল এসেছে। পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া হিসাবের সঙ্গেও সিফাতের গ্রাহক কপির বিলের মিল রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৩১৭ টাকা, জুনে ৫০ ইউনিটের জন্য ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের জন্য ৫১৩ টাকা বিল এসেছে। সব মিলিয়ে চার মাসে ওই মিটারে ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
আরেকটি মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৮১২ টাকা, জুনে ২০০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
অপর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের জন্য ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটের জন্য ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে চার মাসের হিসাব পর্যালোচনা করা হলেও জুলাই ও আগস্ট মাসের বিলের সঙ্গে সিফাতের গ্রাহক কপির মিল পাওয়া গেছে। ওই দুই মাসে তিনটি মিটারে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল এসেছে, যা পল্লী বিদ্যুতের হিসাবেও একই।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আহসান কবীর বলেন, ওই বাসার তিনটি মিটার পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। মিটারে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম হয়নি। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে, ঠিক সেই পরিমাণ হিসাবেই বিল করা হয়েছে।
তবে বাসাটিতে কী ধরনের বৈদ্যুতিক পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি বলে জানান আহসান কবীর। বাসার ভেতরেও কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিফাত মূলত তার নিজস্ব ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//