Advertisement
বাংলাদেশে হামের ছোবলে হাজার মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
Publish: Monday, 14 September, 2026, 4:35 PM

মাত্র এক বছর বয়সী সাইফ হাসানকে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের (আইডিএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। গত ২৭ আগস্ট মারা যায় শরীয়তপুরের এই শিশুটি। 

এর কয়েক দিন আগে সাইফের জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যেই তাকে প্রথমবারের মতো হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়। 
ফলে পরিবারের সদস্যদের মনে প্রশ্ন জাগে, টিকা নেওয়ার কারণেই কি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল?

তবে চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের একটি সমস্যায় চিকিৎসাধীন থাকা সাইফ টিকা নেওয়ার আগেই সম্ভবত হাম ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। টিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির সুযোগ পাওয়ার আগেই সংক্রমণটি তার বিদ্যমান শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। 

আইডিএইচের জুনিয়র কনসালট্যান্ট শ্রেবাশ পাল বলেন, সংক্রমণটি সাইফের আগের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। 


সাইফের মৃত্যু বাংলাদেশে চলমান ভয়াবহ হাম পরিস্থিতির একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ মাত্র এক বছর আগে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সারা বছরে হাম শনাক্ত হয়েছিল ১৩২টি এবং কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিপুল প্রাণহানির মধ্যেও সরকার ব্যাপক আকারে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে। জরুরি এই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। 

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি টিকা, তবু কেন মৃত্যু?
৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশে হামজনিত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৯টি। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়া রোগীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। আরও ৯০৯টি মৃত্যু হাম-সন্দেহজনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। 
অন্যদিকে সরকারি তথ্যানুযায়ী, জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এক কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। 

কর্মসূচির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৮০ লাখ শিশু। 
অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে টিকাদানের এই সাফল্যের পরিসংখ্যানই বাংলাদেশের হাম মোকাবিলার অন্যতম দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসছে। একদিকে শুরুতেই টিকা পাওয়ার উপযোগী শিশুর সংখ্যা কম হিসাব করা হয়েছিল, অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ের গড় টিকাদানের হার দেশের বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্রকে আড়াল করতে পারে। 

কোনও একটি এলাকায় টিকাদানের হার বেশি হলেও সেখানে বড় একটি অংশের শিশু টিকা না পেলে হাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। 

সমস্যার শুরু অনেক আগে
বাংলাদেশে হামের বর্তমান সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। প্রায় ১৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের দেশটি একসময় হাম নির্মূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নিয়মিত টিকাদানের হার কমতে থাকায় বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাবঞ্চিত হয়ে পড়ে। 
২০২৩ সালের বাংলাদেশ কভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে অনুযায়ী, হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের হার ২০১৯ সালের ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে কমে ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। 

দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে কমে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়।



এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//






Advertisement


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ