রেলওয়ে পোলোগ্রাউন্ডে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা শুরুর আগেই ১০লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে লুটপাট ও ভাঙচুর।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের আয়োজনে ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে রেলওয়ে প্রোগ্রাম মাঠে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা। মেট্রোপলিটন চেম্বারের কর্মকর্তাদের দাবি মেলা করতে না পারা অন্য একটি পক্ষ মেলার জন্য আনা বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী সহ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর লোকজনদের দুই পিকআপ মালামাল ভাঙচুর করে এবং ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে।
সকাল ১০ টায় সংঘটিত এই ঘটনার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজন ঘিরে মুখোমুখি হয়েছে দুই ব্যবসায়ী সংগঠন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) চায় সেখানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা করতে। আর একই সময়ে মেলা আয়োজনের জন্য আগেই অনুমতি পেয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই)।
আগামী ১ থেকে ২৯ নভেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলা আয়োজন করতে চায় দুই পক্ষই। মেট্রোপলিটন চেম্বারের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদন নিয়ে মাঠ ভাড়ার ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধসহ মেলা আয়োজনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা তারা আগেই শেষ করেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের দাবি, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তারা এই মাঠে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করে আসছে। ফলে একই মাঠে একই সময়ে দুই চেম্বারের মেলা আয়োজনের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিরোধ।
বিরোধের মধ্যে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পলোগ্রাউন্ড মাঠে মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজ চলাকালে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন মালামাল ও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে সিএমসিসিআই। এ ঘটনার পর দুই ব্যবসায়ী সংগঠনের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
সিএমসিসিআই সূত্র জানায়, মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ১০ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। পরে ১৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা ১ থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২৯ দিন রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিআইটিইএফ-২০২৬ আয়োজনের অনুমতি দেয়।
এরপর ১৯ জুলাই মেলা চলাকালে নিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে পুলিশ টিম মোতায়েনের আবেদন করা হয়। ২৬ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) বরাবর মাঠ ভাড়া বাবদ ৪৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার পাঠিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়।
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত রেলওয়ে স্টেডিয়াম ও পলোগ্রাউন্ড মাঠ বরাদ্দের চুক্তিনামা সিএমসিসিআইকে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
তবে এর মধ্যেই মাঠে মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজ নিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে সিএমসিসিআই। শনিবার বেলা ১১টার দিকে একদল লোকজন এসে তাদের নির্মাণাধীন মালামাল ও সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
মেলার ইভেন্টের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হান্নান সিকদার বলেন, ‘আমরা মেলার কাজ করছিলাম। হঠাৎ কিছু লোকজন এসে প্রথমে আমাকে সমঝোতা করতে বলে। পরে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি বললাম, মেলা তো মেট্রোপলিটন চেম্বারের। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমি তো ইভেন্টের দায়িত্বে আছি। এ কথা বলার পর তারা আমার গায়ে হাত তোলে এবং আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এ.এম. মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন চট্টগ্রাম চেম্বারের সঙ্গে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে কীভাবে মেলা শুরু করা যায়, সে বিষয়ে বোর্ড মিটিং করে আমাদের সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের অবস্থানও অনড়। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘আমরা ৩২ বছর ধরে এখানে মেলা করে আসছি। এখন অন্য কেউ এসে মেলা করবে, এমন তো হবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, মেট্রোপলিটন চেম্বার মেলা আয়োজনের জন্য একজন যুবলীগ নেতাকে ভাড়া দিচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি আইনের আওতাধীন উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
মাঠ নিয়ে দুই চেম্বারের এমন টানাপোড়েনের মধ্যে সিসিসিআইকে নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মামুনুল ইসলাম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পূর্বের জিএম নভেম্বর মাসে মেলার জন্য সিএমসিসিআইকে অনুমোদন দিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘মেলা কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই) সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে সব কার্যক্রম শেষ করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এসে একই সময়ে মাঠটিতে মেলা আয়োজনের আবেদন জানিয়েছে।’
রেলওয়ের পক্ষ থেকে সিসিসিআইকে নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পলোগ্রাউন্ডে মেলা আয়োজনের সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা বলছে সিসিসিআই। সংগঠনটির দাবি, তারা গত ৩২ বছর ধরে সেখানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। বিভিন্ন বছর এ মেলায় প্রায় ৪০০টি স্টলে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সিসিসিআইয়ের দাবি, এসব মেলা থেকে তাদের আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, সিএমসিসিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রায় ২৪০টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী এবং আমদানি-রপ্তানি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//