সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ভিসিসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে সিকৃবির ভিসির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
শিক্ষকদের একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলামের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন বিএনপিপন্থী সাদাদলের শিক্ষকবৃন্দ।
তবে তাদের পাত্তা না দিয়ে ভিসি নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভিসি’ দাবি করে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব মানবেন না বলে তিনি তার অনিয়ম দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
নির্বাচনের পর সাদাদলের শিক্ষকবৃন্দ বারবার ভিসির সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চাইলেও তাদের অভিযোগ নানান অজুহাত দেখিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত থাকছিলেন।
রবিবার তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন- এমনটা অনুমান করে তিনি আগে থেকেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তার বলয়ের শিক্ষক কর্মচারিদের সেখানে জড়ো করে রেখেছিলেন।
সাদাদলের শিক্ষকৃবন্দ সেখানে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে বিশেষ করে, নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমের বিরোধীতা করতে গেলে এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা একজন সাদাদলের একজন শিক্ষককে ঘুষি মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত এবং তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ ঘটনায় সাদাদলের অন্তত ৯ জন শিক্ষক আহত হওয়ার দাবি করেছেন তারা।
তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল ইসলাম। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, সাদাদলের শিক্ষকরা নাকি ১৭ বছর অভুক্ত ছিলেন।
এখন কোনো যোগ্যতার বিচার ছাড়াই তাদেরকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিতে হবে- এমন একটা দাবি নিয়ে আমার কাছে এসে হইচই শুরু করলে প্রক্টর, অ্যাডভাইজার, রেজিস্ট্রার এসে প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে তারা আমার উপর চড়াও হলে তাদের ঠেকাতে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এতে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন এবং জানান, বিষয়টি এমনিতেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রশাসনের উপর তারা হাত তুলেছে। তাই এ ব্যাপারে অবশ্যই আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আর সাদাদলের শিক্ষক ও সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর কাজী মেহতাজুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বলেন, তার অবৈধ কার্যকলাম ও নিয়োগ বন্ধের দাবি নিয়ে যাওয়ায় আমাদের উপর হামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় আইন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//