Advertisement
তানজিনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, নিয়োগ-স্থায়ীকরণের প্রশ্ন
চট্রগ্রাম ব্যুরো
Publish: Thursday, 13 August, 2026, 9:57 PM

চট্টগ্রামের সিডিএ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তানজিনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন আদায় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটির তদারকি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কলেজে ১৭ জন স্থায়ী, ২ জন অস্থায়ী, ১১ জন খণ্ডকালীন, ৪ জন চুক্তিভিত্তিক ও ৫ জন ব্লকভুক্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ৭ জন স্থায়ী, ৬ জন অস্থায়ী ও একজন খণ্ডকালীন কর্মী রয়েছেন।

বছরের পর বছর স্থায়ী হচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা
শিক্ষকদের অভিযোগ, যোগ্যতা পূরণ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থায়ী করার সুযোগ থাকলেও অনেকে সাত-আট বছর ধরে অস্থায়ী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

পাঁচজন কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পার হলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে একাধিকবার নির্দেশ দিলেও তা ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশনে অনুমোদন করা হয়নি।

এদিকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ছয় শিক্ষককে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া স্থায়ী করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। পরে কমিটির অন্য সদস্যদের আপত্তির মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে তাদের আবার স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও প্রশ্ন
তানজিনা চৌধুরীর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। তাদের দাবি, নিয়োগের সময় সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা তার ছিল না। সিটি করপোরেশনের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তিনি ওই যোগ্যতা পূরণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিনা চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন।

বেতন আদায়ের পদ্ধতি পরিবর্তন
বেতন আদায়ের পদ্ধতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, আগে অনলাইনে বেতন নেওয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে সেই পদ্ধতি বন্ধ করে ম্যানুয়াল পদ্ধতি চালু করেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শ্রেণিশিক্ষকদের দিয়ে বেতন রেজিস্টারে এন্ট্রি করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অনলাইন পদ্ধতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বেতন আদায় ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগের পদ্ধতি চালুর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বই নির্বাচনেও শিক্ষকদের মতামত নেই

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হয় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজেই বই নির্বাচন করেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, অফিসের বিভিন্ন খরচের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যয়নপত্র, ট্রান্সফার সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থের ব্যবস্থাপনাতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ।

গত সাত বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অডিট হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি শিক্ষক-কর্মচারীদের।

তিন কর্মীর শাস্তি নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের ১ থেকে ৩ জুন সরকারি ছুটির সময়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তিন কর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিস খোলা থাকবে—এমন কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনজনের একজনকে চাকরিচ্যুত, একজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অপরজনের এক বছরের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, শাস্তির আগে তাদের যথাযথভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিধি অনুযায়ী ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। চাকরিচ্যুত একজনকে পরবর্তীতে পুনর্বহাল করা হলেও অন্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা বহাল রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

বাড়িভাড়া ও টাইম স্কেল নিয়েও ক্ষোভ শিক্ষকদের অভিযোগ, স্থায়ী শিক্ষকরা ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পেলেও অস্থায়ী শিক্ষকরা পান ২৫ শতাংশ। অস্থায়ী শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের।

এ ছাড়া ১০ বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করা কয়েকজন শিক্ষক গত দুই বছর ধরে টাইম স্কেল পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।


প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ:

প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে থাকার অভিযোগও উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার ঘনিষ্ঠ একটি বলয়ের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।


ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একক ভূমিকা যেমন প্রশ্নের মুখে, তেমনি এসব সিদ্ধান্তের সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির তদারকি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলে তা কীভাবে কার্যকর হলো—এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তানজিনা চৌধুরী নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দগাঁও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিডিএ পরিচালিত স্কুলে অনিয়ম হলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে সিডিএ সচিব জানান।





এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//এফ//








Advertisement


Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ
সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : [email protected], Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ