Publish: Monday, 13 October, 2025, 1:21 AM
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এস্টেট পরিচালক এহসানুল মামুনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজউকের অভ্যন্তরে এবং বাইরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে—রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে পূর্বাচল ও উত্তরা আবাসিক এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। আবেদনকারীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ঘুষ না দিলে ফাইল হারিয়ে ফেলা বা মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়, অথচ অর্থপ্রদান করলে সেটি দ্রুত অগ্রসর হয়।
সূত্র জানায়, এস্টেট পরিচালকের হাতে থাকা বিবেচনাধিকার ক্ষমতা (Discretionary Power) ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে—ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ নির্মাণকে বৈধ ঘোষণা করা, আবার অর্থ দিতে অস্বীকার করায় বরাদ্দ বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও দালাল চক্রের সঙ্গে পরিচালক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বরাদ্দ, অনুমোদন ও লিজ বাণিজ্য চলছে বলে জানা গেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, সরকারি অনেক কর্মকর্তার ঘোষিত আয় ও দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে অমিল রয়েছে, যার মধ্যে এহসানুল মামুনের নামও ঘুরেফিরে আসছে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিক।
প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ ও বাংলা ট্রিবিউন ইতিমধ্যেই রাজউকের এস্টেট বিভাগে দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নাগরিক সমাজের একাংশের মন্তব্য—“রাজউকের এস্টেট বিভাগে কাজ করতে হলে ঘুষ দিতে হয়”—এটি এখন এক ধরনের অঘোষিত বাস্তবতা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে পরিচালক এহসানুল মামুনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৩০০১৩৯১০-এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি নাগরিক সমাজের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজউকের এস্টেট বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম/এফ//