Advertisement
কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি
Publish: Tuesday, 4 November, 2025, 7:19 PM

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লোপাট, নিম্নমানের ও ভেজাল সার আমদানি, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)–এর মাধ্যমে অর্থ পাচার ও জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন নামে একজন ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকেই সার আমদানির কথা থাকলেও, কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট বিদেশি বেসরকারি ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। এতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ মূল্যে সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মো. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ওই সিন্ডিকেট দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি দিয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

দুদকে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) জি-টু-জি চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশের সরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সার আমদানি করে থাকে। কিন্তু চায়নার সঙ্গে ২০২৫ সালের চুক্তিতে বেসরকারি ট্রেডিং কোম্পানির নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়াই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে নিয়মবহির্ভূত।

এছাড়া, চুক্তির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী সার শিপমেন্ট না করে দাম বেড়ে যাওয়ার পর শিপমেন্ট শুরু করা হয়। এর ফলে প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত ১০৫ মার্কিন ডলার গুনতে হয়, যা সরকারের প্রায় ৫৬ কোটি টাকার লোকসান সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চায়নার ইউনাইটেড সির্টিস ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সার আমদানির প্রস্তাব পাঠানো হয়, যদিও প্রতিষ্ঠানটি মূলত স্পেয়ার পার্টস, কাঠ ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং সার আমদানির কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

এভাবেই জি-টু-জি চুক্তির নামে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তৃতীয় লটের সার আমদানিতে দাম নির্ধারণের তারিখ পরিবর্তন করে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করা হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম/এফ//







Advertisement


সম্পাদক: শাহীন চৌধুরী
উপদেষ্টা সম্পাদক: হেলেনা বিলকিস চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সৈয়দ আফজাল বাকের

অফিস: ২/১ হুমায়ুন রোড (কলেজ গেট) মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ ফোন: ৮৮-০২-৪৮১১৯৪৯৫, হটলাইন: ০১৭১১-৫৮৩৬২৩, ০১৭১৭-০৯৮৪২৮
E-mail : abnews13@gmail.com, Web : www.abnews24bd.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এবিনিউজ