বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে সরকার–সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে সার আমদানির নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মরক্কো থেকে টিএসপি ও ডিএপি সার আমদানির জন্য ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিএডিসি একটি চুক্তি করে, যার মেয়াদ ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শেষ হয়।
চুক্তির ৫ম লটের আওতায় ২০২৪ সালের জুন মাসে বিএডিসি টিএসপি ৩৮০ ও ডিএপি ৪৭৮ ডলার প্রতি টনে ক্রয় আদেশ জারি করলেও, মরক্কোর পক্ষ থেকে সার সরবরাহ না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর, ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রতিটন সার ১০০ ডলার বেশি দামে আমদানি করা হয়, যা নিয়মবহির্ভূতভাবে দুবাইয়ের অফশোর একাউন্টে টাকা পরিশোধের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের এক ভয়ানক দৃষ্টান্ত।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে মরক্কোর সঙ্গে নবায়িত চুক্তিতে পূর্বের ডিসকাউন্ট ১০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি টনে ৩ ডলার করে ১০ লাখ টন সারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—এই চুক্তির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা এলসি’র মাধ্যমে বিদেশে পাচারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে নবায়িত চুক্তিতে “রেসি প্রকাল ট্যারিফ”-এর মতো একটি কাঠামো যোগ করা হয়েছে। এতে নির্ধারিত হয়েছে—সার কম আনলে কম ডিসকাউন্ট, বেশি আনলে বেশি ডিসকাউন্ট। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএডিসি যে সব সার আমদানি করেছে, তাতে সর্বজনীনভাবে ৫ শতাংশ মূল্যছাড় থাকলেও, এখন ৫% ছাড় পেতে হলে ৫ লাখ টন সার আমদানি করতে হবে।
তাছাড়া বিএডিসির জাহাজে অন্য প্রতিষ্ঠানের সার আমদানি করার অনুমতি রেখে “Co-Shipment Allow” ধারা সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিএডিসির অর্থে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্য দেশের সার আমদানি করার সুযোগ রাখা হয়েছে—যা প্রতিষ্ঠানটির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তথ্য অনুযায়ী, কানাডার প্রথম লটের সারবাহী জাহাজ ‘এমভি জেনকো মেরি’ (MV Genco Mary, IMO: 9923205) সুমাত্রায় সার খালাস করে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এই চুক্তি থেকে কানাডার সরবরাহকারী সংস্থাই পুরো সুবিধাভোগী হয়েছে।
এছাড়া, সার পরিবহন সংক্রান্ত Despatch-Demurrage ফি আগে যেখানে ৬ থেকে ১২ হাজার ডলারে সেটেলমেন্ট করা হতো, বর্তমানে সেটি ৩০ থেকে ৪০ হাজার ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়াই করা হয়েছে—যা স্পষ্টভাবে বেআইনি ও প্রশাসনিক নীতিবহির্ভূত।
দেশবিরোধী এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে বিএডিসির চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিনকে তার মুঠোফোন (০১৯৯৮৭৭০০০১) নাম্বারে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম/এফ//