আকাশে উড়ছিল ছোট একটি উড়োজাহাজ। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ ইঞ্জিনের শব্দ বদলে গেল। উড়োজাহাজ ধীরে ধীরে নিচে নামতে শুরু করল। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বড় বিপদ তৈরি হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শান্ত মাথা আর দ্রুত সিদ্ধান্তে সেই বিপদ এড়ালেন মাত্র ১৯ বছরের তরুণ পাইলট।
ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জুপিটার শহরে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মার্চ তরুণ পাইলট নিকো ব্রে তার বন্ধুকে নিয়ে আকাশে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। তারা উড়ছিল একটি ছোট প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ সেসনা ১৫০জি–তে।
উত্তর পাম বিচ কাউন্টির ওপর দিয়ে উড়তে উড়তে হঠাৎ সমস্যা শুরু হয়। নিকো ব্রে জানান, উড়োজাহাজ ওপরে উঠছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি দেখেন ইঞ্জিনের আরপিএম কমে যাচ্ছে। আরপিএম মানে হলো ইঞ্জিন কত দ্রুত ঘুরছে। ইঞ্জিন ঠিকমতো কাজ না করায় উড়োজাহাজ আর ওপরে উঠছিল না, বরং ধীরে ধীরে নিচে নামছিল।
পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত তিনি নিরাপদ জায়গা খুঁজতে থাকেন। প্রথমে তিনি ইউএস ১ হাইওয়ে–এ নামার কথা ভাবেন। কিন্তু রাস্তা খুব সরু হওয়ায় সেখানে নামা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ইন্ডিয়ানটাউন রোড–কে বেছে নেন। তখন সড়কটিতে গাড়ি চলাচল ছিল। তবু তিনি ধীরে ধীরে উড়োজাহাজটি নামিয়ে আনেন এবং সফলভাবে রাস্তার ওপর অবতরণ করেন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই ঘটনায় উড়োজাহাজ বা সড়কে থাকা কেউই আহত হননি। নিকো ব্রে বলেন, সমস্যা বুঝতে পারার পর থেকে মাটিতে নামা পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া নিকো ব্রে বর্তমানে ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর (পাইলট প্রশিক্ষক) হিসেবে কাজ করেন। এই ঘটনার তদন্ত চলছে।
এবিনিউজ টুয়েন্টিফোর বিডিডটকম//আর//